২২ মার্চ ২০২৬, ১১:২০

শত বছরের ঐতিহ্যে কলাপাতায় ঈদ উদযাপন

কলাপাতায় খাবার খেয়ে ঈদ উদযাপন  © টিডিসি ফটো

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ভাটিয়াপাড়া গ্রামে ঈদ মানেই এক ভিন্ন আবহ। এখানে আধুনিকতার ছোঁয়ার মাঝেও টিকে আছে শত বছরের পুরোনো এক ব্যতিক্রমী রীতি কলাপাতায় খাবার খেয়ে ঈদ উদযাপন। গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই ঐতিহ্য লালন করে আসছে, যা গ্রামবাসীর মধ্যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও দৃঢ় করেছে।

জানা যায়, ঈদের নামাজ শেষে ছোট-বড় সবাই দলবদ্ধ হয়ে গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে যান। প্রতিটি বাড়িতেই তাদের আপ্যায়ন করা হয় কলাপাতায় পরিবেশিত খাবার দিয়ে। সেমাই, মিষ্টি, পোলাও-মাংসসহ নানা পদ থাকে এই আপ্যায়নে। এখানে নেই প্লেট, গ্লাস বা টেবিল-চেয়ারের আয়োজন; মাটিতে বসেই সবাই একসঙ্গে খাওয়ার আনন্দ ভাগ করে নেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় দুই শতাব্দী ধরে চলে আসা এই প্রথা গ্রামের মানুষকে একসূত্রে বেঁধে রেখেছে। ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ভুলে সবাই মিশে যান এক আনন্দধারায়। ফলে ছোটোখাটো বিরোধও নিজেদের মধ্যেই মিটিয়ে ফেলেন তারা, আদালত বা থানার দ্বারস্থ হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা নওশাদ মুনশি বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই এই রীতি চালু আছে। ঈদের দিন আমরা দল বেঁধে বাড়ি বাড়ি যাই, স্লোগান দেই এবং কলাপাতায় খাবার খাই। এতে পারস্পরিক ভালোবাসা আরও বেড়ে যায়।

যুবক রওশন জানান, ছোটোবেলা থেকেই তিনি এই আয়োজন দেখে বড় হয়েছেন। তার মতে, এটি শুধু একটি উৎসব নয়, বরং গ্রামবাসীর পরিচয় বহনকারী একটি ঐতিহ্য।

খুলনা থেকে বাবার সঙ্গে গ্রামে আসা শিশু রেহানা জানায়, এমন আয়োজন তার কাছে একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। একসঙ্গে সবার সাথে খেতে পেরে সে বেশ আনন্দিত।

স্থানীয় ইকবাল হাসান বেনু বলেন, কর্মসূত্রে অনেকেই বাইরে থাকলেও ঈদের সময় সবাই গ্রামে ফিরে আসেন। এই আয়োজন তাদের একত্রিত হওয়ার একটি বড় উপলক্ষ্য।

গোবরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী শফিকুল রহমান টুটুল বলেন, ভাটিয়াপাড়া গ্রামের এই প্রথা বহু বছরের পুরোনো এবং এটি এলাকার সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও গ্রামবাসী এই ঐতিহ্য ধরে রাখবেন।