২১ মার্চ ২০২৬, ২০:৪৫

আরও একটি ঈদ ক্যাম্পেই কাটল রোহিঙ্গাদের, ফেরার স্বপ্ন অধরা

আরও একটি ঈদ ক্যাম্পেই কাটল রোহিঙ্গাদের  © টিডিসি ফটো

দেশব্যাপী পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে আজ শনিবার। তবে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে ঈদের আনন্দের পাশাপাশি বিরাজ করেছে গভীর বিষাদ। নিজ দেশ মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা ভিন্ন এক বাস্তবতায় উদযাপন করছেন মুসলমানদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৮টার পর উখিয়া ও টেকনাফ-এর বিভিন্ন শিবিরে ঈদের নামাজ আদায় করেন রোহিঙ্গারা। নামাজ শেষে শিশুদের মাঝে কিছুটা আনন্দের ছাপ দেখা গেলেও বড়দের চোখে-মুখে ছিল কষ্ট আর স্বজনহারানোর বেদনা। রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের স্মৃতি ও বর্তমান শরণার্থী জীবনের অভাব-অনটনে ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।

ঈদের জামাত শেষে অনেক ইমাম ও মুসল্লি কান্নায় ভেঙে পড়েন। মোনাজাতে অংশ নিয়ে তারা নির্যাতনের বিচার কামনা করেন এবং বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদ, সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের জন্য মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন।

কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা ইউনুস আরমান বলেন, ঈদ এলেও আমাদের মধ্যে তেমন আনন্দ নেই। নিজ দেশে ঈদ উদযাপন আর ভিনদেশে ঈদ পালন এক নয়। সেখানে আমাদের পূর্বপুরুষদের কবর রয়েছে। প্রতি ঈদে নামাজ শেষে আমরা কবর জিয়ারত করতাম, যা এখন আর সম্ভব নয়। এর চেয়ে কষ্ট আর কী হতে পারে।

এ বিষয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের রোহিঙ্গা সংকট-এর পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতনের মুখে পড়ে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বর্তমানে পুরনোদেরসহ উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি শিবিরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে।