২১ মার্চ ২০২৬, ১৫:৫৩

রাজধানীতে ঈদ উৎসব: আনন্দ মিছিলে ফিরল হারানো ঐতিহ্য

ঈদ আনন্দ মিছিল পরিণত হয় মানুষের মিলনমেলায়  © টিডিসি

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী যেন রূপ নিয়েছিল এক বর্ণিল উৎসবমুখর শহরে। সকাল গড়াতেই জাতীয় ঈদগাহ ময়দান সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু হয় ‘ঈদ আনন্দ মিছিল’, যা ধীরে ধীরে পরিণত হয় মানুষের মিলনমেলায়।

শনিবার (২১ মার্চ) প্রধান জামাত শেষে সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই মিছিলটি হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে যাত্রা করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, শাহবাগ মোড় ঘুরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলটির নেতৃত্ব দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

মিছিলে ছিল উৎসবের নানা রূপ—ব্যান্ড পার্টির তালে তালে অগ্রসর হওয়া জনতা, রঙিন সাজে ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়ি, শোভাযাত্রার অংশ হিসেবে হাতি, ভ্যানের বহর, রাজকীয় ছাতা, রণপা আর জোকারদের উপস্থিতি। সব মিলিয়ে এটি যেন হয়ে ওঠে এক চলমান সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী।

শুধু আয়োজনই নয়, মিছিলের প্রাণ ছিল মানুষের অংশগ্রহণ। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণ—সব বয়সী মানুষ একসঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছেন নানা স্লোগানে। কেউ ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন, কেউ আবার সামাজিক ও রাজনৈতিক বার্তাও তুলে ধরেছেন।

আজিমপুরের বাসিন্দা খায়রুল হাসান বলেন, বহুদিন পর এমন আয়োজন দেখে নিজের শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে গেছে। আগে ঈদের দিন মানেই ছিল রাস্তায় আনন্দ, ঢোল-বাদ্য আর মানুষের ভিড়। এখন আবার সেই পরিবেশটা ফিরতে দেখছি—এটা সত্যিই আনন্দের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালেয়ের শিক্ষার্থী রাফসান বলেন, ঈদের আনন্দ তো পরিবারেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এভাবে হাজার মানুষের সঙ্গে উদযাপন করলে সেটা অন্যরকম অনুভূতি দেয়। ঈদকে ঘিরে এমন সার্বজনীন উদযাপন অনেকটাই হারিয়ে গিয়েছিল। আজ মনে হচ্ছে, ঈদ আবার সবার উৎসবে পরিণত হচ্ছে।

আয়োজকরা জানান, এই আয়োজনের লক্ষ্য কেবল আনন্দ নয়, বরং নগর জীবনে হারিয়ে যাওয়া উৎসব সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনা। 

মিছিল শেষে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান, ভবিষ্যতে এই আয়োজন আরও বড় পরিসরে করা হবে। কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল, তবে আমরা চাই সবাই মিলে এই আনন্দকে আরও বিস্তৃত করতে হবে। তিনি বলেন, এই ঈদে কিছুটা অব্যবস্থাপনা ছিল। তবে প্রত্যাশা করি, রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সবাই মিলে বাংলাদেশকে যেন এগিয়ে নিতে পারি।

এর আগে ‘নাগরিক উদ্যোগে’ তিন দিনব্যাপী ঈদ উৎসব শুরু হয় গতকাল শুক্রবার (২০ মার্চ)। রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবর প্রাঙ্গণে মেহেদি উৎসব ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই উৎসবের শেষ দিনে আগামীকাল রোববার (২২ মার্চ) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।