২১ মার্চ ২০২৬, ১৩:০১

জাল ফেলা নিষেধ, ঈদ আনন্দ নেই মেঘনা পাড়ের শতাধিক ভাসমান জেলে পরিবারের

জাল ফেলা নিষেধ, ঈদ আনন্দ নেই মেঘনা পাড়ের শতাধিক ভাসমান জেলে পরিবারের  © টিডিসি ছবি

লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর বুকে ভাসমান নৌকায় বসবাস করছেন শতাধিক জেলে পরিবার। সরকারি নির্দেশে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় এবার ঈদে তাদের জীবনে নেই ঈদ আনন্দ, বাচ্চাদের মুখে হাসি ফোটানোর মতো সামর্থ্য নেই বাবাদের। অসহায় বাবাদের মুখের দিকে তাকিয়েই বলছেন, বাবার টাকা নেই তাই নতুন জামা কিনে দিতে পারেননি।

এসব ভাসমান জেলেদের নেই ঈদ, নেই নতুন পোশাক, নেই আনন্দ। তিন বেলা খাবার জোগাড় করাই যেখানে বড় চ্যালেঞ্জ; সেখানে ভাল খাবার কিংবা নতুন পোশাক তাদের জীবনে বিলাসিতা।

একটি নৌকায় তাদের ঘর, তাদের উপার্জনের মাধ্যম। ঝড়, বৃষ্টি, ঘুর্নিঝড় যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সব সময় এই নৌকায় তাদের ভরসা। নদীতে তাদের জীবন, নদীতে তাদের বসবাস। এই নদীতে মাছ ধরে তাদের চলে জীবন-জীবিকা। সরকারি আদেশে মেঘনায় দুই মাস নিষিদ্ধ সব ধরনের মাছ ধরা। এখন তাদের রুটি রুজি বন্ধ ছেলে-মেয়ে-পরিবার নিয়ে কাটছে তাদের কষ্টের জীবন।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মজু চৌধুরীর হাট এলাকার ভাসমান জেলে আব্দুস সাত্তার(৪০) বলেন, ৩০ বছর ধরে এই নৌকাতে থাকি। এইখানেই আমাদের জীবন মরণ। এবার নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ দুই মাস। ঈদ আসছে ঈদের আনন্দ নেই আমাদের কাছে। ছেলে মেয়েদের নতুন জামা কাপড় কিনে দিতে পারছিনা। সরকারি ভাবে ৪০ কেজি চাল পেয়েছি এটা দিয়েই কোন রকম ধার-দেনা করে চলছে সংসার। আমাদের রুজি নেই। ঈদ করার মত অবস্থাও নেই, ঈদের আনন্দও নেই।

মাফিয়া বেগম(২৫) নামের একজন ভদ্রমহিলা বলেন, ছোট থেকে বাবা-মা নিয়ে আসছে এখানেই থাকি, আল্লাহ রাখে। অভিযান চলছে। ঈদের কেনাকাটা করতে পারিনি। ছেলে-মেয়ে নতুন জামা কাপড় চায়; কিন্তু চাইলেও কিছু করার নাই।

আছিয়া খাতুন নামে আরেক ভাসমান নারী বলেন, আমরা ছেলে মেয়েদের জামা কাপড় কিনে দিব কোথা থেকে আমরা তো নদীতে জাল ফেলতে পারি না। আমরা গরিব মানুষ ছেলে মেয়েদের ঈদ-চান করাতে পারব না।

আরেক ভাসমান জেলে হোসেন মাঝি বলেন, আমাদের বাপ চাচারা এখানে থাকতো আমরাও এখানে থাকি আমরা মরলে যে মাটি দিবে সেই জমিটুকু নাই। দেনা করে দোকান থেকে বাকি এনে খাই। ঈদ যে করমু সেই অবস্থা আমাদের নেই। যদি টাকা পয়সা থাকতো ছেলে মেয়েদের জামা কাপড় কিনে দিতাম, আমোদপূর্তি করতাম। এখন আমাদের নেই আমরা ঈদ করতে পারব না।

ঈদ আসে, ঈদ চলে যায়-কিন্তু এই ভাসমান মানুষদের কাছে দিনটি হয়ে থাকে অন্যদিনের মতোই সাধারণ। সমাজের বিত্তবানদের সামান্য সহমর্মিতা আর সহযোগিতাই পারে এই মানুষগুলোর জীবনেও ঈদের আনন্দের কিছুটা রঙ ছড়িয়ে দিতে। পারে তাদের ছোট্ট সোনামণিদের মুখে একটু ঈদের হাসি ফোটাতে।