২০ মার্চ ২০২৬, ১৫:০৫

ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভোলার দর্শনীয় স্থানগুলোতে কাটুক আনন্দমুখর সময়

ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভোলার দর্শনীয় স্থানগুলোতে কাটুক আনন্দমুখর সময়  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

পবিত্র ঈদ-উল ফিতরকে ঘিরে ভ্রমণপিপাসুদের আগ্রহ বেড়েছে দ্বীপ জেলা ভোলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আধুনিক অবকাঠামো এবং নিরাপদ পরিবেশ— সব মিলিয়ে ঈদের ছুটিতে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য ভোলা হয়ে উঠেছে আকর্ষণীয় গন্তব্য।

বিশেষ করে চরফ্যাশন উপজেলার পর্যটন স্পটগুলো ইতোমধ্যে পর্যটকদের নজর কেড়েছে। এখানে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ওয়াচ টাওয়ার, চরফ্যাশন শিশু ও বিনোদন পার্ক, ফ্যাশন স্কয়ার, ঢালচরের তারুয়া দ্বীপ, চর কুকরি-মুকরির নারিকেল বাগান, বাতিঘর, খেজুরগাছিয়ার ‘মিনি কক্সবাজার’ সৈকত এবং বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক এবং মনপুরার দখিনা হাওয়া সৈকত। এসব স্থান এখন পরিবার নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য অন্যতম জনপ্রিয় স্পট।

ভোলা সদরে রয়েছে আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত ফাতেমা খানম জামে মসজিদ, যা নান্দনিক সৌন্দর্যে সবার নজর কাড়ে। পাশাপাশি বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্মৃতি জাদুঘর ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান।

চরফ্যাশনের নান্দনিক ওয়াচ টাওয়ার পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২২৫ ফুট উচ্চতার এই টাওয়ার থেকে বাইনোকুলারের মাধ্যমে চর কুকরি-মুকরি, তারুয়া সৈকত এবং বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকা দেখা যায়। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘বাংলার আইফেল টাওয়ার’ নামেও পরিচিত। টাওয়ারের পাদদেশে রয়েছে প্রায় ২০ হাজার দর্শনার্থীর ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ফ্যাশন স্কয়ার, যেখানে পানির ফোয়ারা ও বিনোদন পার্ক সব বয়সী মানুষের জন্য বাড়তি আকর্ষণ যোগ করেছে।

ভোলা শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চর কুকরি-মুকরি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। এখানে ম্যানগ্রোভ বন, হরিণ, বানরসহ নানা বন্যপ্রাণী এবং পাখির সমাহার পর্যটকদের মুগ্ধ করে। পাশাপাশি তারুয়া দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সর্পিল জলাধার, নারিকেল বাগান এবং খেজুরগাছিয়ার সমুদ্রসৈকত ভ্রমণকে করে তোলে আরও বৈচিত্র্যময়।

এছাড়া বাতিঘর ও কোস্টাল রেডিও স্টেশনও পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থাপনা। এগুলো সমুদ্রগামী জাহাজ ও মাছ ধরার ট্রলারকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি আবহাওয়ার আগাম বার্তা দিয়ে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। কুকরি-মুকরিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন রেস্ট হাউস, হেলিপ্যাড ও সুইমিংপুলও রয়েছে পর্যটকদের জন্য।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। থানা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও নৌ-পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। উপজেলা প্রশাসনও জানিয়েছে, পর্যটকদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মতে, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও মানসম্মত খাবারের কারণে সারা বছরই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা ভোলায় ভিড় করছেন। ঈদের ছুটিকে ঘিরে সেই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি ভোলা এখন নতুন সাজে সেজেছে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে। তাই এবারের ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভোলার মনোরম পরিবেশে ঘুরে এসে আনন্দময় মুহূর্ত কাটাতে পারেন আপনিও।