১৯ মার্চ ২০২৬, ২২:৩০

প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, একজন গ্রেপ্তার

প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, একজন গ্রেপ্তার  © সংগৃহীত

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এক ওমান প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের পর সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে নাইম হোসেন (৩৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোররাতে উপজেলার বাগদা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিজের পানের দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার নাইম হোসেন উপজেলার কাটাবাড়ী ইউনিয়নের লালপুকুর মোল্লাপাড়া গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে। তিনি বাগদা বাজারে দীর্ঘদিন ধরে পান ব্যবসা করে আসছিলেন। এলাকায় তার পরিচয় ছিল সাধারণ একজন ব্যবসায়ী হিসেবে, তবে প্রকাশ পেয়েছে এক নারীর জীবনে নেমে আসা অমানিশার এই অধ্যায়ের নায়ক হিসেবেই তিনি এখন আলোচনায়।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ওই গৃহবধূর সঙ্গে নাইম হোসেনের পরিচয় হয়। প্রযুক্তির এই সংযোগ ধীরে ধীরে বিপদে রূপ নেয়। পরিচয়ের সুবাদে নাইম হোসেন বিভিন্ন প্রলোভন ও কুপ্রস্তাব দিয়ে ওই নারীকে ফুসলানোর চেষ্টা করতে থাকেন।

একপর্যায়ে গত বছরের ৪ এপ্রিল মধ্যরাতে সেই চেষ্টা সফল হয়। কৌশলে ওই গৃহবধূকে একা পেয়ে তাকে ধর্ষণ করেন নাইম। আর এই ধর্ষণের সময়ই তিনি মোবাইল ফোন দিয়ে সেই দৃশ্য ধারণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ধর্ষণের পর শুরু হয় আরও নৃশংস অধ্যায়। ধারণ করা ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই গৃহবধূকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। শুধু শারীরিক নির্যাতনই নয়, ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট ৫ লাখ টাকাও হাতিয়ে নেয় অভিযুক্ত নাইম।

দীর্ঘদিন ধরে এই ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত আর সহ্য করতে না পেরে বুধবার দিবাগত রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী নারী। মামলায় নাইম হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়।

মামলা হওয়ার পরপরই তদন্তে নামে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই প্রদীপ কুমার বর্মনের নেতৃত্বে একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোররাতে বাগদা বাজারে অভিযান চালায়। এ সময় নিজের পানের দোকান থেকে নাইম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, গ্রেপ্তারের পরই তাকে বৃহস্পতিবার সকালে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক শুনানি শেষে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এমন ঘটনা সামাজিক জীবনের জন্য অশনি সংকেত। ভুক্তভোগী নারী দীর্ঘদিন চরম নির্যাতনের শিকার হয়েও শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। তার এই সাহসিকতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই প্রদীপ কুমার বর্মন জানান, নাইমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী নারীর দেওয়া বক্তব্য ও আলামতের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।