১৮ মার্চ ২০২৬, ২২:১৩

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন বরগুনার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে

বরগুনার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান  © সংগৃহীত

প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন উপকূলীয় জেলা বরগুনায়। সমুদ্র সৈকত, ম্যানগ্রোভ বন,রাখাইন পল্লী, নির্জন চর আর বৈচিত্র্যময় জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এই জেলায় রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা।

বরগুনার পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে সুরঞ্জনা ইকো ট্যুরিজম অ্যান্ড রিসোর্ট, শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত, আশার চর শুঁটকিপল্লী, নিদ্রার চর, টেংরাগিরি বনাঞ্চল, হরিণঘাটা ইকোপার্ক, রুহিতা সৈকত ও বিহঙ্গ দীপ এবং বিবিচিনি শাহী মসজিদ। প্রতিটি স্থানের নিজস্ব সৌন্দর্য ও আনন্দঘন পরিবেশ দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়।

সুরঞ্জনা ইকো ট্যুরিজম অ্যান্ড রিসোর্ট

সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের বড়ইতলায় অবস্থিত। এখানে রয়েছে বিস্তীর্ণ ম্যানগ্রোভ বনভূমি, শিশুদের বিনোদনের সুযোগ, ছবি তোলার আকর্ষণীয় স্পট এবং রাত্রিযাপনের সুবিধা। দর্শনার্থীরা এখানে প্রকৃতির মাঝে হাঁটাহাঁটি, বনভূমি অন্বেষণ এবং ছোট্ট জঙ্গলী প্রাণীর মডেল দেখার সুযোগ পাবেন।

যাতায়াত: বরগুনা পৌর শহর থেকে জন প্রতি মাত্র ১০ টাকা ভাড়া। প্রবেশ ও রাত্রিযাপন: প্রবেশ টিকিট ১০০ টাকা। রাত্রিযাপনের জন্য বুকিং ৪,০০০ টাকা।

শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত

তালতলী শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে নিশানবাড়িয়ার নলবুনিয়া এলাকায় অবস্থিত। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষা এই সৈকত প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার বিস্তৃত। ঝাউবনের সারি এবং সমুদ্রের ঢেউ পর্যটকদের মনোরম অভিজ্ঞতা দেয়। গোধূলি বেলায় সূর্যাস্তের দৃশ্য দর্শকের মনে দাগ কেটে যায়।
যাতায়াত: মোটরসাইকেল বা ছোট গাড়িতে জনপ্রতি ৬০–৮০ টাকা।
রাত্রিযাপন: সৈকত সংলগ্ন ‘সাম্পান’ রেস্টহাউজে দুই রুম ৩,০০০ টাকায়। স্থানীয় দোকান থেকে খাবারের ব্যবস্থা পাওয়া যায়।

আশার চর শুঁটকিপল্লী

শুভসন্ধ্যা সৈকতের কাছাকাছি অবস্থিত। এখানে অসংখ্য মৎস্যজীবী বসবাস করেন। পর্যটকরা শুঁটকি তৈরির প্রক্রিয়া, রাখাইন সম্প্রদায়ের জীবনধারা, বৌদ্ধ মন্দির ও প্রাচীন উপাসনালয় দেখতে পারেন। এছাড়া তাঁতশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণ।
যাতায়াত: সৈকত থেকে ২০–৩০ টাকা ভাড়া।

নিদ্রার চর

নির্জনতা ও নীরবতার জন্য বিখ্যাত। একদিকে বঙ্গোপসাগর, অন্যদিকে নদীর মোহনা—মাঝখানে বিস্তৃত কেওড়া ও ঝাউবনের সবুজ ছায়া। সাগরের জোয়ার-ভাটার খেলা, নরম ঘাসে ঢাকা প্রান্তর দর্শকদের স্বপ্নময় পরিবেশ উপহার দেয়।
যাতায়াত: তালতলী উপজেলা থেকে ২০–৩০ টাকা ভাড়া।

টেংরাগিরি বনাঞ্চল

ফকিরহাট এলাকায় অবস্থিত। একসময় সুন্দরবনের অংশ হলেও বর্তমানে দেশীয় দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এখানে হরিণ, শূকর, চিতা বাঘ, অজগর, কুমির ও বানরসহ নানা বন্যপ্রাণী দেখা যায়। যাতায়াত: ১১.৫০ টাকার টিকিট, সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রবেশ। রাত্রিযাপন: কাছাকাছি কোনো রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা নেই।

হরিণঘাটা ইকোপার্ক

পাথরঘাটা উপজেলার পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর মোহনায় অবস্থিত। এখানে হরিণ, বানর ও বুনো শূকরের দেখা মিলতে পারে। ওয়াচ টাওয়ার, ফুটট্রেল ও নৌকাভ্রমণের ব্যবস্থা রয়েছে।
যাতায়াত: উপজেলা শহর থেকে ২৫–৩০ টাকা ভাড়া।
রাত্রিযাপন: সরকারি বনবীথি রেস্টহাউজে নন-এসি ১,০০০ টাকা, এসি ২,০০০ টাকা। ব্যক্তিগত উদ্যোগেও রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা আছে।

রুহিতা সৈকত ও বিহঙ্গ দীপ

পাথরঘাটা উপজেলায় অবস্থিত। সারি সারি গাছের মধ্যে পর্যটকদের বসার ব্যবস্থা ও দোলনা রয়েছে। নদীর মধ্যে জেগে ওঠা বিহঙ্গ দীপ পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।
যাতায়াত: মোটরসাইকেল/গাড়িতে ১০০–১৫০ টাকা।
ভ্রমণ: ১০–১২ জন মিলে ট্রলারে ১,০০০–১,৫০০ টাকা। রিজার্ভ ট্রলার নিয়েও নদীতে ঘুরতে পারা যায়।

বিবিচিনি শাহী মসজিদ

বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি গ্রামে টিলার চূড়ায় অবস্থিত। প্রায় সাড়ে তিনশ বছরের পুরানো মোগল স্থাপত্যের এই মসজিদ ইতিহাস, স্থাপত্য এবং রহস্যের জন্য দর্শকদের আকর্ষণ করে। স্থানীয়রা এটিকে ‘গায়েবি মসজিদ’ নামেও জানেন।
যাতায়াত: বরগুনা শহর থেকে মোটরসাইকেল বা ছোট গাড়িতে ১৫০–২০০ টাকা ভাড়া। গ্রামের কাছ থেকে খাড়া সিঁড়ি বেয়ে সরাসরি মসজিদে পৌঁছানো যায়।

ঈদকে কেন্দ্র করে বরগুনার এসব পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ নজরদারি ও বিশেষ গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করেছে।