১৮ মার্চ ২০২৬, ১৫:২৩

নামাজঘরের পাশে মাদক-জুয়া, প্রতিবাদ করায় কৃষকদল নেতার হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রক্তাক্ত

কৃষকদল নেতার হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রক্তাক্ত  © টিডিসি ছবি

গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার শরীফপুর এলাকায় সন্ত্রাস, মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মাহি সরকার নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম খান পূর্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি তিনি গাছা থানা বিএনপির সভাপতি মনিরুল ইসলাম বাবুল সিপাইয়ের সহযোগিতায় কৃষকদলের সভাপতি হন। এরপর থেকেই দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসী জানান, ওই এলাকায় কেরাম বোর্ড খেলার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে জুয়া ও মাদক সেবন চলছিল। পাশেই নারীদের তারাবির নামাজ আদায়ের স্থান থাকায় নিয়মিত হট্টগোল সৃষ্টি হয়ে নামাজে বিঘ্ন ঘটছিল। বিষয়টি নিয়ে বারবার প্রতিবাদ করলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গাছা থানার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফপুর খানপাড়া এলাকায় মো. আমিরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, মাদক ব্যবসা, জুয়া ও ইভটিজিংসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছে। তার দুই ছেলে সজিব ও প্রান্তসহ কয়েকজন সহযোগী এলাকায় ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্তরা নিয়মিত বাড়ির সামনে কেরাম বোর্ড বসিয়ে জুয়া খেলা এবং মাদক সেবন ও বিক্রি করে। এতে পাশের একটি ঘরে নারীদের জামায়াতে তারাবির নামাজ আদায়ে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়,  একই স্থানে পুনরায় জুয়া ও মাদক বিক্রিতে বাধা দিলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে তারা অতর্কিত হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে এলে মাহি সরকারকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এতে তার মাথা, হাত ও পায়ে গুরুতর জখম হয়। পাশাপাশি লোহার রড, পাইপ ও লাঠি দিয়েও তাকে আঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় গাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে এবং কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদককারবার বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়— এমন কোনো কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।