১৮ মার্চ ২০২৬, ১৩:৩৯

ঈদযাত্রায় গাজীপুরে ১২ কিলোমিটার থেমে থেমে যানজট

গাজীপুরে দীর্ঘ যানজট  © সংগৃহীত

ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে গাজীপুর-এর গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে থেমে থেমে দীর্ঘ যানজট।

বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর থেকে চন্দ্রা টার্মিনাল পর্যন্ত এবং নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের বাড়ইপাড়া থেকে চন্দ্রা এলাকায় যানবাহনের ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়। অতিরিক্ত যাত্রী চাপ, যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং মহাসড়কের পাশে কারখানার সামনে বাস দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও এখনো বড় ধরনের যানজটের সৃষ্টি হয়নি বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের প্রায় ৪০ শতাংশ কারখানা বুধবার দুপুরে ছুটি ঘোষণা করেছে। এতে করে বিকেল থেকে যাত্রীদের চাপ আরও কয়েকগুণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মঙ্গলবার প্রায় ২৫ শতাংশ কারখানা ছুটি হওয়ায় শ্রমিকদের একটি বড় অংশ যাত্রা শুরু করেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা অধিকাংশ বাস যাত্রীপূর্ণ হয়ে আসছে। ফলে চন্দ্রা এলাকায় নতুন যাত্রী তোলার সুযোগ কমে গেছে। একই সঙ্গে মহাসড়কের দুই পাশে শ্রমিকদের জন্য আগে থেকেই রিজার্ভ করা অসংখ্য পরিবহন দাঁড়িয়ে থাকায় যানজট আরও তীব্র হচ্ছে।

চন্দ্রা ফ্লাইওভারের নিচে কথা হয় রফিকুজ্জামান নামে এক শ্রমিকের সঙ্গে। তিনি বলেন, “মঙ্গলবার আমার কারখানা ছুটি হয়েছে। আজ সকালে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি। যানজট থাকলেও কোনো না কোনো পরিবহন পাওয়া যাচ্ছে, দরদাম করে চলে যেতে পারবো।”

শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হচ্ছে। বুধবার অধিকাংশ কারখানা বন্ধ থাকবে এবং বৃহস্পতিবার আরও ৮৩৩টি কারখানা ছুটি পাবে।

কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম জানান, মঙ্গলবার থেকেই যাত্রীদের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। তিনি বলেন, “দুপুরের পর চাপ আরও বাড়বে। মহাসড়কের পাশে শ্রমিকদের ভাড়া করা গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।”