একই স্থানে ৫ গতিরোধক, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার আনোয়ারা-চন্দনাইশ সড়কের বনফুল ও জয়কালী বাজারের মধ্যবর্তী অংশে একই স্থানে পাঁচটি গতিরোধক স্থাপন করা হয়েছে। হঠাৎ বসানো এসব গতিরোধক নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চালক ও যাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত এই উদ্যোগে যেমন যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, তেমনি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক সপ্তাহ আগে সড়কটির ওই অংশে পরপর পাঁচটি গতিরোধক বসানো হয়। সড়কের দুই পাশে একটি কমিউনিটি সেন্টার ও একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক স্থাপনা রয়েছে। পথচারীদের একাংশের অভিযোগ, ওই স্থাপনাগুলোর সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়েই এখানে গতিরোধক বসানো হয়েছে, যা জনস্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সড়ক ব্যবহারকারীরা জানান, ব্যস্ত এই সড়কে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করে। সেখানে হঠাৎ একাধিক গতিরোধক বসানোয় চালকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক রশিদ আহমদ বলেন, ‘সকালে সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় কিছুই ছিল না। রাতে ফেরার পথে দেখি এক জায়গায় কয়েকটি স্পিডব্রেকার বসানো হয়েছে। ইতিমধ্যে এখানে কয়েকটি ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটেছে। বড় দুর্ঘটনার আগে এগুলো অপসারণ করা জরুরি।’
যাত্রী হুমাইরা সুমি বলেন, ‘এই জায়গার অল্প দূরত্বের মধ্যেই আরেকটি স্পিডব্রেকার রয়েছে। সেখানে আবার নতুন করে পাঁচটি বসানোর যৌক্তিকতা নেই। বরং যেসব এলাকায় স্কুল, হাসপাতাল বা ঘনবসতি আছে, সেখানে স্পিডব্রেকার প্রয়োজন ছিল।’
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের চট্টগ্রাম দোহাজারী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, ‘স্থানীয়দের আবেদন ও প্রশাসনের সুপারিশের ভিত্তিতে সরেজমিন পরিদর্শন করে গতিরোধকগুলো বসানো হয়েছে। এগুলো অপসারণের সুযোগ নেই। তবে চালকদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য স্পষ্টভাবে রং করা হবে।’
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘গতিরোধক স্থাপনের বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো আবেদন করা হয়নি। এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো সমন্বয়ও করা হয়নি।’