একদল তরুণের উদ্যোগে ৩ শতাধিক শিশুর মুখে ঈদের হাসি
ঈদ মানেই আনন্দ, নতুন পোশাক আর হাসিমুখে ভরে ওঠা শৈশব। কিন্তু সেই আনন্দ সবার ভাগ্যে সমানভাবে জোটে না। সাতক্ষীরার অনেক শিশুই আছে, যারা অন্যদের আনন্দ দেখেই নিজেদের স্বপ্ন গড়ে তোলে। সেই শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতেই এগিয়ে এলো একদল তরুণ, আর তাতেই বদলে গেল এক সকাল, হয়ে উঠল উৎসবমুখর।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে সাতক্ষীরা প্রি-ক্যাডেট স্কুল প্রাঙ্গণে ছিল এক ব্যতিক্রমধর্মী ঈদ আয়োজন। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা বন্ধু ইয়ুথ ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, এতিম ও দুস্থ পরিবারের তিনি শতাধিক শিশুর হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন পোশাক ও ঈদ সালামি।
নতুন জামা হাতে পেয়ে শিশুদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে নির্মল আনন্দ, আর পুরো প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে হাসি-খুশির কোলাহলে। শিশুদের এই আনন্দ যেন ছুঁয়ে যায় উপস্থিত সবার মন।
উপহার পেয়ে এক শিশুর মা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলে সব সময় অন্যদের নতুন জামা দেখে মন খারাপ করত। আজ ওর মুখে যে হাসি দেখলাম, সেটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। যারা এই আয়োজন করেছে, আল্লাহ তাদের ভালো রাখুক।’
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাতক্ষীরা সদর ও তালা উপজেলার ৩০০ শিশুর হাতে এবারের ঈদ উপহার তুলে দেওয়া হয়েছে, যা তাদের আগের সব আয়োজনকে ছাড়িয়ে গেছে।
ঈদ উপহার বিতরণ কমিটির আহ্বায়ক সাকিবুল হাসান বলেন, ‘আমরা বন্ধু ২০১৫ সাল থেকে পিছিয়ে পড়া শিশুদের নিয়ে কাজ করছে। প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদে শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। তবে এবারের আয়োজন আমাদের জন্য বিশেষ, কারণ আমরা একযোগে দুই উপজেলায় ৩০০ শিশুর কাছে পৌঁছাতে পেরেছি। শিশুদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত।’
শিশুদের সঙ্গে এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে অনুষ্ঠানে অংশ নেন সামাজিক ব্যক্তিত্ব শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন, আমিনা বিলকিস ময়না, আহসান রাজীব, এম বেলাল হোসাইন, জামাল উদ্দীন, গাজী আসাদ, এসএম বিপ্লব হোসেন, বাহলুল করিম, গাজী মাহিদা মিজান, রিজাউল করিম, ইব্রাহিম খলিল, সাকিবুল হাসান, জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুর রহমান নীরব, মাহফুজুর রহমান, মুনাইমু মিজান, সিনথিয়া হাসান ও মাহি প্রমুখ।
তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানবিক এই উদ্যোগটি কেবল উপহার বিতরণের গণ্ডি পেরিয়ে এক অনন্য সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।