১৬ মার্চ ২০২৬, ১৭:১৪

‘খাল খননে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে’

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার সাতবাড়িয়া খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন শেখ ফরিদুল ইসলাম  © টিডিসি

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, খাল খননের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা হবে এবং কৃষকেরা সেচ সুবিধা পেয়ে উপকৃত হবেন। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার সাতবাড়িয়া খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাল পুনঃখনন করতে পারলে কৃষকেরা সবজি ও বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করতে পারবেন। এতে দরিদ্র কৃষকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী ক্রান্তিকালে দেশের হাল ধরে একটি দরিদ্র ও কৃষিনির্ভর বাংলাদেশকে কৃষিতে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। তাঁরই সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। জনগণের কল্যাণে বিএনপি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, বাগেরহাট জেলার নয়টি উপজেলার বিভিন্ন খাল পুনরুদ্ধারের জন্য প্রশাসনের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। এসব খাল চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে খনন করে একটি উন্নত ও আলোকিত জনপদ গড়ে তোলা হবে। এজন্য তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাত, বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বিপিএম, বিএডিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল রশিদ, বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন, ফকিরহাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ কামরুল ইসলাম গোরা, সাধারণ সম্পাদক শেখ শরিফুল কামাল কারিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরমোহাম্মদ এবং স্থানীয় উপকারভোগী মো. নাজমুল ইসলাম।

জানা গেছে, ফকিরহাট উপজেলার সাতবাড়িয়ায় প্রায় ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য, ৪৫ ফুট প্রস্থ ও প্রায় ১০ ফুট গভীর করে খালটির পুনঃখনন কাজ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) বাস্তবায়ন করবে। এর ফলে ওই এলাকার প্রায় ৬৫০ হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ কৃষক উপকৃত হবেন বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।