১৫ মার্চ ২০২৬, ১৫:৫৭

নেত্রকোনায় শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ঘরবাড়ি-ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিধ্বস্ত বসতঘর   © সংগৃহীত

নেত্রকোনার পূর্বধলায় আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শনিবার রাতে ২৫ মিনিট ধরে চলা শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা ভেঙে পড়া, টিনের ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বোরো ধানসহ ফসলের ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হওয়া প্রায় ২৫ মিনিটের শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এ সময় ঝড়ে উপজেলার সদর, আগিয়া, হোগলা, ঘাগড়া, বিশকাকুনী, ধলামূলগাঁও ও নারান্দিয়া ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিলাবৃষ্টির সঙ্গে আকস্মিক ঝড় ও শিলার আঘাতে টিনের ঘরের চালা ফুটো হয়ে গেছে, অনেক স্থানে গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়েছে এবং ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে রবিবার (১৫ মার্চ) সকাল ১০টা পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা যায়নি।

ঘাগড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা শিক্ষক মজিবুর রহমান বলেন, হঠাৎ ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। টিনের চালের ওপর শিলা পড়ার শব্দে মনে হচ্ছিল পাথর ছুড়ে মারা হচ্ছে। দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখা যাচ্ছিল না, ঝড়ের চাপ এত বেশি ছিল।

একই ইউনিয়নের কৃষক মো. আইনউদ্দিন খাঁ জানান, শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখনো ধানের তোড় পুরোপুরি না আসায় বড় ক্ষতি হয়নি, তবে অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়েছে। অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আগিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মোশাররফ তালুকদার বলেন, ‘এমন শিলাবৃষ্টি আগে খুব কম দেখেছি। টিনের চালের ওপর বিকট শব্দে বোঝা গেছে, শিলার আঘাত কতটা ভয়ঙ্কর ছিল।’

পূর্বধলা সদর ইউনিয়নের পরিষদের (ইউপি) সদস্য আজিজুল হক ভূঁইয়া বলেন, পূর্বধলায় নজিরবিহীন শিলাবৃষ্টি হয়েছে। তবে বোরো ধান, শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া ঝড়ের কবলে পড়ে জারিয়া লোকাল ট্রেনের চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। ঝড়ের কারণে উপজেলার ৪নং জারিয়া ইউনিয়নের বারধার (বারহা) এলাকায় রেললাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে, ফলে কিছু সময়ের জন্য ট্রেন চলাচল আটকে থাকে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গাছ সরিয়ে ফেললে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. আকরম হোসেন বলেন, গত রাতের ঝড়ে আমাদের কিছু বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাত থেকেই আমাদের লোকজন লাইন সচল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এখনো একটি ফিডারে বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ আছে। খুব দ্রুত লাইনটি সংস্কার করা হবে।