১৪ মার্চ ২০২৬, ১৫:৫৬

পুলিশের হাত থেকে পালানো আওয়ামী লীগ নেতা আবার প্রকাশ্যে!

সাবেক এমপি মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউল হক চৌধুরী  © সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পুলিশের হেফাজত থেকে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউল হক চৌধুরী চার মাস আত্মগোপনে থাকার পর আবার এলাকায় প্রকাশ্যে দেখা গেছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের কদমরসুল গ্রামে তাকে দেখা যায় বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, জিয়াউল হক চৌধুরী এলাকায় ফিরেছেন, এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী।

খানখানাবাদ ইউনিয়নের কদমরসুল গ্রামের বাসিন্দা সাদুর রশিদ বলেন, জিয়াউল হক চৌধুরী একই গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে। তিনি ও তার ভাই মোহাম্মদ আরিফ বিভিন্ন মামলার আসামি, যার মধ্যে হত্যা মামলাও রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তৎকালীন সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন জিয়াউল হক চৌধুরী। সে সময় তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর মামলা, হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটান।

গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মতো তিনিও আত্মগোপনে চলে যান বলে স্থানীয় লোকজন জানান। পরে তিনি এলাকায় ফিরলে পুলিশ তাকে আটক করে। তবে আটক করার সময় তার সমর্থকেরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হ্যান্ডকাফসহ তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এরপর থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।

প্রায় চার মাস আত্মগোপনে থাকার পর শুক্রবার তিনি আবার এলাকায় ফিরেছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ব্যক্তিরা। তারা হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি জিয়াউল হক চৌধুরীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জিয়াউল হক চৌধুরীর মতো বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকেও প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদ সাইফুল্লাহ মুঠোফোনে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এসব স্পর্শকাতর বিষয়ে মোবাইলে তথ্য দিতে রাজি নই। আপনি সাংবাদিক কি না, সেটিও আমি জানি না। সরাসরি থানায় এসে তথ্য নিতে হবে।’

উল্লেখ্য, গত ৫ ডিসেম্বর রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ জিয়াউল হক চৌধুরীকে তার বাড়ি থেকে আটক করে। এ সময় তার সমর্থকেরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হ্যান্ডকাফসহ তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এর পর থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।