১৪ মার্চ ২০২৬, ১৫:১৫

ঝিনাইদহে কৃষক দল নেতার লাশ নিয়ে বিএনপির বিক্ষোভ

বিএনপি নেতা তরু মিয়ার মরদেহ নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা  © টিডিসি

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে নিহত কৃষক দল নেতা তরু মুন্সীর লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে ঝিনাইদহ মর্গ থেকে লাশ গ্রহণ করে শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে দলের নেতাকর্মীরা।

বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে হামদহ মোড়ে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, সাজেদুর রহমান পাপ্পু, মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, আলমগীর হোসেন, শাহজাহান আলী, আহসান হাবিব রণক, আশরাফুল ইসলাম পিন্টু, মীর ফজলে ইলাহী শিমুল এবং নিহতের ছেলে ছাত্রদল নেতা শিপন মুন্সি।

বক্তব্যে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ অভিযোগ করেন, জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করায় তরু মুন্সী গুরুতর আহত হন এবং পরে তার মৃত্যু হয়। তিনি এ ঘটনার ন্যায়বিচার দাবি করেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করবে। তিনি আরও বলেন, ‘দেশ গড়ার এই সময়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করা উচিত নয়।’

পুলিশ জানায়, বিক্ষোভ ও সমাবেশ শেষে নিহত তরু মুন্সীর লাশ তার নিজ গ্রাম সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুরে নেওয়া হয়। সেখানে শনিবার দুপুর আড়াইটায় জানাজা শেষে মাধবপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজায় জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা অংশ নেন।

অন্যদিকে এ মৃত্যুকে স্বাভাবিক দাবি করে জেলা জামায়াত নেতারা জানান, সংঘর্ষের সময় আতঙ্কিত হয়ে স্ট্রোক করেই তরু মুন্সীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে জেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আমীর ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মাধবপুর গ্রামে মহিলা জামায়াতের ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন। তিনি এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘অপপ্রচার’ না চালানোর আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুরে মাধবপুর গ্রামে জামায়াতের মহিলা শাখার ইফতার ও তালিম কর্মসূচি ঘিরে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হন। আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকাকালে শুক্রবার রাতে তরু মুন্সীর মৃত্যু হয়। তিনি ইউনিয়ন কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।