১৪ মার্চ ২০২৬, ১১:২৮

সৈকতে ভেসে আসা বিশালাকৃতির মৃত তিমি নিয়ে বিপদে পর্যটক-স্থানীয়রা

কুতুবদিয়ার উপকূলে ভেসে আসা বিশাল মৃত তিমি  © টিডিসি ফটো

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার উপকূলে ভেসে আসা একটি বিশাল মৃত তিমি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। প্রায় দেড় টন ওজনের তিমিটি কয়েক দিন আগে সৈকতে ভেসে আসার পর বালুচরে পুঁতে রাখা হলেও জোয়ারের পানিতে বালু সরে গিয়ে এর কিছু অংশ আবার দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। 

ফলে পচে যাওয়া তিমি থেকে ছড়িয়ে পড়া তীব্র দুর্গন্ধে আশপাশের এলাকায় অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সৈকতে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, দুর্গন্ধের কারণে সেখানে অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভও দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাতে দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নর পশ্চিম উপকূলে তিমিটি ভেসে আসে। খবর ছড়িয়ে পড়লে কৌতূহলী মানুষ সেখানে ভিড় করেন এবং অনেকে তিমিটির ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। পরে রোববার রাতে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে খননযন্ত্র দিয়ে বালুচরে গর্ত খুঁড়ে তিমিটি পুঁতে রাখা হয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুতুবদিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, অতীতে কুতুবদিয়ার উপকূলে এত বড় মৃত তিমি ভেসে আসার ঘটনা শোনা যায়নি। তিমিটির মৃত্যু কীভাবে হয়েছে আঘাত, নাকি বিষক্রিয়ায়- তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জানা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুন: ঢাকার বাতাস আজ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’

জনপ্রতিনিধিরা জানান, সম্প্রতি কুতুবদিয়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদোন্নতি পেয়ে অন্যত্র বদলি হয়েছেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় সেখানে পরিবেশ অধিদপ্তর বা বন বিভাগের কোনো স্থায়ী কর্মকর্তা নেই। ফলে ঘটনাস্থলে এখনো সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তেমন কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, কুতুবদিয়ার সৈকতে মৃত তিমি ভেসে আসার খবর পাওয়া গেছে। তবে তিমিটির মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্গম এলাকার কারণে সেখানে সরাসরি কর্মকর্তা না থাকলেও বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখার চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দুর্গন্ধ ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিমিটির মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করা জরুরি।