১৪ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪৫

বর-কনেসহ ১৪ জন নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

নিহতদের জানাজা  © সংগৃহীত

বাগেরহাটে নৌবাহিনীর স্টাফবাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর-কনেসহ ১৪ জন নিহতের ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেজবাহ উদ্দিনকে প্রধান করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—বিআরটিএ বাগেরহাটের সহকারী পরিচালক লায়লাতুল মাওয়া এবং জেলা পুলিশের নবম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা। কমিটিকে দুর্ঘটনার মূল কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনায় বর আহাদুর রহমান ছাব্বির ও কনে মার্জিয়া আক্তার মিতুসহ উভয় পরিবারের ১৩ সদস্য এবং মাইক্রোবাস চালক নাঈম প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—ববের বাবা আব্দুর রাজ্জাক, ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম এবং বড় ভাই জনির স্ত্রী ও তার তিন সন্তান।

কনের পরিবার থেকে প্রাণ হারিয়েছেন কনে মিতু নিজে, তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ার বেগম। নিহত ছাব্বির মোংলা শহরে মোবাইলের দোকান চালাতেন এবং মিতু কয়রা এলাকার নাকসা আলিম মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

জুমার নামাজের আগে নিহতদের গ্রামের বাড়িতে জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে মোংলা কবরস্থানে ছাব্বির ও তার পরিবারের ৯ সদস্যের এবং কনের পরিবারের ৪ সদস্যের দাফন কয়রা এলাকায় সম্পন্ন করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এ বিষয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। বিধি অনুযায়ী বর ও কনের জন্য ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য নিহতদের পরিবারের জন্য নিয়মমাফিক ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা দেওয়া হবে।