পুরান ঢাকার ফুটপাতে বাহারি ইফতার
রাজধানী পুরান ঢাকার ইফতারির ইতিহাস বহু বছরের পুরনো। ভোজনবিলাসী মানুষের বরাবরই আকর্ষণ থাকে পুরান ঢাকার ইফতারের প্রতি। তাই ঢাকার অন্য অংশের লোকেরাও ইফতার সামগ্রী ক্রয় করতে ভিড় জমান পুরান ঢাকার ইফতার সামগ্রীর দোকানগুলোতে।
পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার, তাঁতীবাজার, সদরঘাট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও চকবাজার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, সারি সারি দোকানে বাহারি রকমের ঐতিহ্যবাহী খাবার সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এসব দোকানে ক্রেতাদের চাহিদা সামাল দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রেতারা।
ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মতে, পুরান ঢাকার ইফতার বাজার শুধু কেনাবেচার স্থান নয়। এটির সঙ্গে মিশে রয়েছে রমজানের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক আবহের এক প্রতিচ্ছবি। ব্যক্তির ধর্মীয় অনুশাসন, পারিবারিক বন্ধন ও প্রজন্মান্তরের ঐতিহ্যের সংমিশ্রণে এই আবহ গড়ে উঠেছে।
ইফতার সামগ্রীর মধ্যে গ্রিল চিকেন, টিক্কা কাবারের প্রতি হাফ ২৬০ টাকা, চিকেন ঝাল ফ্রাই প্রতি প্লেট ২৪০ টাকা, বুট প্রতি কেজি ২০০ টাকা,পাকিস্তানি মেহেরাব শরবত ১০০ টাকা লিটার হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। বিফ চাপ ১ হাজার ৩০০ টাকা, লাবাং লিটার ২৭০ টাকা, বিফ শিক কাবাব প্রতি শিক ১৪০ টাকা, দই বড়া ৭০ টাকা বাটি, পেস্তা শরবত প্রতি লিটার ৪৫০ টাকা, হালিম প্রতি বাটির পরিমাণ অনুযায়ী বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও ইফতারির কমন আইটেম ছোলা, মুড়ি, বিভিন্ন ধরনের শরবতও এখানে বিক্রি হচ্ছে।
তবে ফলের দাম বাড়ায় বিড়ম্বনায় পরতে হচ্ছে ক্রেতাদের। পুরান ঢাকার কয়েকটি ফলের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, কালো আঙুর ৬০০ টাকা, সাদা আঙুর ৪২০ টাকা, সাদা আপেল ৪২০ টাকা, লাল আপেল ৪০০ টাকা, কমলা ৩৬০ টাকা, নাশপাতি ৪৫০ টাকা, মালটা ৩৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
রায়সাহেব বাজারে ইফতার কিনতে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা মো. ফজলুর কবির বলেন, আমি ওয়ারিতে থাকি। বাসায় যাওয়ার আগে এখান থেকে ইফতার কিনে নিয়ে যায়। এই এলাকার ইফতার সামগ্রী ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু। তাই পরিবারের সবার পছন্দ রায়সাহেব বাজারের ইফতার সামগ্রী।
নিলয় কবির নামে দোকান কর্মচারী জানান, কাজ শেষ করে এখান থেকে ইফতার নিয়ে কিনে নিয়ে যাই। বাসায় গিয়ে রান্না করার সময় থাকে না।
ইফতার কিনতে আসা পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী কাসেম আলী বলেন, এই সকল বাজারের খাবারের মান তুলনামূলক ভালো। প্রতিবছর এখান থেকেই ইফতারি নেই, এবারও নিচ্ছি।
এখানে ইফতার কিনতে আসা রিকশা চালক আব্দুল মনির বলেন, ফুটপাতে কম দামে ইফতার পাওয়া যায় দেখেই এখান থেকে কিনি। আমরা গরিব মানুষ, কম আয় করি। এ জন্য বড় রেস্টুরেন্ট থেকে কিনতে পারি না।
ইফতার বিক্রেতা খোকন সাহা বলেন, রমজান বা রোজা এলে আমাদের জন্য সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। সকাল থেকে ইফতারির খাদ্য পণ্য তৈরি করে বিকেলে বিক্রি করি। লাভ বেশি না হলেও সংসারের খরচ চলে
অপর বিক্রেতা মালিক আবুল হোসেন বলেন, মুড়ি, ছোলা, জিলাপি বাসাতেই তৈরি করে নিয়ে আসি। বাইরের লোকজনের পাশাপাশি অটোচালক, রিকশাচালকরা আমার ক্রেতা। আবার আশপাশের দোকানিরাও এখান থেকে ইফতার কেনেন। তিনি বলেন, বড় লোকরা আর এখানে আসে না। যারা খেটে খাওয়া মানুষ বা বাজারে ছোট-খাট ব্যবসা করেন, তারাই ইফতারি কিনতে আসেন।