১৩ মার্চ ২০২৬, ১৩:০৫

বরের বাড়িতে ৯ মসজিদ থেকে আনা হয়েছে খাটিয়া, জুমার নামাজের পর দাফন

নিহতদের লাশ দাফনের জন্য প্রস্তুত  © টিডিসি ফটো

বাগেরহাটের রামপালে নৌবাহিনীর বাসের সাথে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বর-কনেসহ ১৪ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ৯ জন সদস্য রয়েছেন। শুক্রবার ভোরে ৯ জনের মরদেহ বাগেরহাটের মোংলার শেহালাবুনিয়ায় পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, কনেসহ চারজনের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে খুলনার কয়রা উপজেলায়।

গত বুধবার খুলনার কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তার মিতুর সাথে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমান সাব্বিরের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে কনের বাড়ি থেকে মাইক্রোবাস যোগে বরযাত্রীরা মোংলার উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রামপালের বেলাইবিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা নৌবাহিনীর একটি বাসের সাথে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বর-কনে ও চালকসহ ১৪ জন প্রাণ হারান। বর্তমানে একজন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতরা হলেন— বর আহাদুর রহমান, তার বাবা আবদুর রাজ্জাক, ভাই আবদুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ভাগনে সামিউল ইসলাম ফাহিম, ভাবি ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল, ভাতিজা আলিফ, আরফা ও ইরাম। এছাড়া কনে মার্জিয়া আক্তার মিতু, তার বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম, নানি আনোয়ার বেগম এবং মাইক্রোবাস চালক নাঈম দুর্ঘটনায় মারা যান।

শুক্রবার সকালে মোংলার শেহলাবুনিয়ায় বরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় হাজারো মানুষের ভিড়। স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। প্রতিবেশী শরীফ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘একসাথে এতগুলো লাশ আগে কখনো দেখিনি, এটি মেনে নেওয়া অসম্ভব।’

নিহত আবদুর রাজ্জাকের ভাই সাজ্জাদ সরদার জানান, ‘এই দুর্ঘটনায় পুরো পরিবারটি শেষ হয়ে গেল।’ তিনি আরও জানান, একসাথে নয় স্বজনের লাশের জন্য আশপাশের ৯টি মসজিদ থেকে খাটিয়া সংগ্রহ করতে হয়েছে।

আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা পরিষদ চত্বরে বরপক্ষের ৯ জনের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাদের মোংলা পৌর কবরস্থানে দাফন করা হবে। অন্যদিকে কনেপক্ষের সদস্যদের কয়রা উপজেলায় দাফনের প্রস্তুতি চলছে।