জ্বালানি সংকটে মাছ ধরতে পারছেন না উপকূলের জেলেরা, বিপাকে ১৫ হাজার মৎস্যজীবী
জ্বালানি তেলের সংকটে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলের জেলেরা চরম বিপাকে পড়েছেন। ডিজেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকা সমুদ্রে যেতে পারছে না। এতে প্রায় ১৫ হাজার মৎস্যজীবী ও সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের জীবিকায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে উপকূলীয় এলাকায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে গেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ডিলারদের মাধ্যমে ৩৫ থেকে ৪০ ব্যারেল ডিজেল সরবরাহ করা হতো, বর্তমানে তা কমিয়ে প্রায় ১০ ব্যারেলে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে জেলেদের প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না।
এ অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) থেকে ডিজেলনির্ভর মাছ ধরার অনেক ট্রলার ও নৌকা ঘাটে নোঙর করে আছে।
পূর্বগহিরা ধলঘাট এলাকার জেলে আবদুল আজিজ বলেন, 'বৃহস্পতিবার সকালে তেল নিতে গেলে দোকানে তেল পাইনি। তেলের অভাবে আমাদের দুইটি ট্রলার মাছ ধরতে পাঠানো বন্ধ রাখতে হয়েছে। প্রতিদিন বসে থাকলে বড় ক্ষতির মুখে পড়ব।'
আরেক জেলে সাইফুল ইসলাম বলেন, 'মাছ ধরাই আমাদের একমাত্র জীবিকা। ঈদের আগে যদি মাছ ধরা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।'
গহিরা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি আবদুর রহমান বলেন, আনোয়ারা উপকূল এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষ সরাসরি মাছ শিকারের সঙ্গে জড়িত। সমিতির অধীনে প্রায় ৫০০ ট্রলার ও নৌকা রয়েছে, যেগুলো ডিজেলচালিত। তেলের সংকট দীর্ঘ হলে জেলেদের পাশাপাশি মাছ ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদেরও ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
পূর্বগহিরা ফকিরহাট এলাকার তেলের ডিলার মেসার্স মোহাম্মদ নুরের স্বত্বাধিকারী মো. নুর বলেন, 'আমাদের ডিলারে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২৫ ব্যারেল ডিজেলের চাহিদা থাকে। আগে পদ্মা ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম থেকে নিয়মিত তেল পেতাম। গত এক সপ্তাহ ধরে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার থেকে আবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রত্যয়ন ছাড়া তেল সরবরাহ করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে।'
এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন, 'সরকার খোলা বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রি নিয়ন্ত্রণে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এর ভিত্তিতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চলছে। তবে জেলেদের সমস্যা বিবেচনায় বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।'