পাবনায় রাতের আধারে পেঁয়াজের জমিতে ‘ঘাস মারা বিষ’ প্রয়োগ
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার চরপাকুরিয়া গ্রামের হেলাল পেঁয়াজের জমিতে রাতের অন্ধকারে ঘাস মারার বিষ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এসময় দুর্বৃত্তরা প্রায় ৬ বিঘা জমিতে বিষ প্রয়োগ করে। এতে ভুক্তভোগী কৃষকের ৬ থেকে ৭ লক্ষাধিক টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ভূক্তভোগী কৃষক হেলাল জানান, এ বছর ছয় বিঘা জমিতে হালি পেঁয়াজের আবাদ করেছিলেন। আর মাত্র ১৬ থেকে ১৭ দিন পরেই ফসল তোলা যেত। কিন্তু রোববার (৮মার্চ) তিনি সকালে গিয়ে দেখেন রাতের অন্ধকারে কে বা কারা পুরো জমির পেঁয়াজে বিষ দিয়ে চলে গেছে। এতে জমির পেঁয়াজ গাছ মরে যাচ্ছে এবং পেঁয়াজ পঁচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দুইদিন আগে তার জমিতে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল বলে তিনি ধারণা করেন।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, জমিতে ঘাস মারা বিষ প্রয়োগ করে পেঁয়াজ ক্ষেত নষ্ট করা হয়েছে। এটা শুধু অপরাধ নয়, এটি কৃষকের পেটে লাথি মারার শামিল। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দিতে হবে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানান তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ছয় বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছিলাম। বিষ দেওয়ায় আমার সব পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে আমি পথে বসে গেলাম। কীভাবে আমি এই ঋণ শোধ করবো? থানায় অভিযোগ দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা এই কাজ করেছে তাদের শাস্তি চাই।’
আজ রবিবার হেলাল উদ্দিনের ক্ষেত পরিদর্শন করেন সাঁথিয়া উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রিপন আলী। তিনি বলেন, ‘সরেজমিনে পেঁয়াজ ক্ষেতটি পরিদর্শন করে দেখতে পেলাম, বিষ প্রয়োগ করে ফসল নষ্ট করা হয়েছে। তাতে পেঁয়াজের শেকড় নষ্ট হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই পেঁয়াজ একেবারে ড্যামেজ বা নষ্ট হয়ে যাবে এবং ভুক্তভোগী কৃষকের প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার মতো ক্ষতি হতে পারে।’
সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকতা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘উপজেলার চরপাকুরিয়া গ্রামের হেলাল উদ্দিন নামের এক কৃষকের পেঁয়াজের জমিতে বিষ প্রয়োগের ঘটনায় আমাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জমিটি পরিদর্শন করা হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য তার পাশে থাকবো এবং তাকে উৎসাহ প্রদান করা হবে। যাতে কিছুটা ক্ষতি তিনি মেকাপ করতে পারেন।’
এ বিষয়ে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’