মৃত্যুর কাছে হার মানলেন ‘জুলাইয়ে গুলিবিদ্ধ’ ছাত্রদল নেতা বাবলু
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে রাজপথে গুলিবিদ্ধ হওয়া টঙ্গীর ছাত্রদল নেতা মুহাম্মদ বাবলু অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন। দীর্ঘদিন খাদ্যনালীতে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকার পর মাত্র ২১ বছর বয়সে শনিবার (৭ মার্চ) সকালে মারা যান তিনি। মরণব্যাধি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে শেষ পর্যন্ত জীবনযুদ্ধে পরাজিত হন এই তরুণ ছাত্রনেতা।
জানা যায়, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নের আবুল কাশেমের ছেলে বাবলু বর্তমানে গাজীপুরের টঙ্গী বেপারীবাড়ি এলাকায় বড় ভাইয়ের সঙ্গে থাকেন। টঙ্গী সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ ছাত্রদলের টঙ্গী ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড শাখার দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকের কাছে গেলে তার খাদ্যনালীতে ক্যান্সার ধরা পড়ে। চিকিৎসা পরিভাষায় এই রোগটির নাম Gastro-esophageal Adenocarcinoma Grade-III। এরপর রাজধানীর ধানমন্ডির নিউ লাইফ হাসপাতালে তার চিকিৎসা শুরু হয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বাবলুকে মোট আটটি কেমোথেরাপি নিতে হতো। এর মধ্যে তিনটি থেরাপি সম্পন্ন হয়েছিল। প্রতিটি কেমোথেরাপির পেছনে ব্যয় হচ্ছিল প্রায় ৪০ হাজার টাকার বেশি। চিকিৎসকদের মতে, কেমোথেরাপির পর তাকে জটিল অস্ত্রোপচার করাতে হবে, যার জন্য প্রয়োজন কয়েক লাখ টাকা।
চিকিৎসার খরচ নিয়ে জীবিত অবস্থায় বাবলু জানিয়েছিলেন, এখন পর্যন্ত তার চিকিৎসায় প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তখনও তার পাঁচটি কেমোথেরাপি বাকি ছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘অপারেশন তো দূরের কথা, পরের থেরাপিগুলোর খরচই জোগাড় করতে পারছি না। যেই দলের জন্য এত পরিশ্রম করেছি আমার বিপদে সেই দলকে পাইনি।’
বাবলুর বাবা আবুল কাশেম নিজ এলাকায় ছোটখাটো ব্যবসা করেন। ছেলের চিকিৎসার জন্য পরিবারের যা কিছু সঞ্চয় ছিল, তা ইতোমধ্যে ব্যয় হয়ে যায়। ফলে পরিবারটি চরম অর্থসংকটে পড়ে।
ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় বাবলু শুধু একজন শিক্ষার্থীই ছিলেন না, ছিলেন একটি প্রজন্মের কণ্ঠস্বর। আওয়ামী স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার উত্তরা বিএনসি সেন্টার এলাকায় সংঘটিত আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে তিনি আহত হন। সেই ঘটনার পর তার বুকে একটি ছররা গুলি রয়ে যায়।