বনমোরগ জব্দ করে দেশি মোরগ অবমুক্ত করার অভিযোগ
খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় বন বিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকৃত বনমোরগ জব্দ করার পর ‘দেশি মোরগ’ অবমুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। জালিয়াপাড়া রেঞ্জ এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় বন বিভাগের স্বচ্ছতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জালিয়াপাড়া রেঞ্জ কার্যালয়ের সামনে ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ওই রেঞ্জ কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাটিরাঙ্গা উপজেলার শান্তিপুর এলাকার এক ব্যক্তি স্থানীয় বাজার থেকে একটি বনমোরগ কিনে বাড়ি ফেরার পথে জালিয়াপাড়া রেঞ্জ কার্যালয়ের সামনে বন বিভাগের সদস্যদের বাধার মুখে পড়েন। পরে বন বিভাগের সদস্যরা তার কাছ থেকে বনমোরগটি জব্দ করেন এবং স্থানীয় কয়েকজনকে সাক্ষী রেখে একটি মুচলেকায় তার স্বাক্ষর নিয়ে তাকে ছেড়ে দেন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী উদ্ধার করা বনমোরগটি দ্রুত নিকটবর্তী বনে অবমুক্ত করার কথা থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, আসল বনমোরগটি বনে ছাড়া হয়নি।
উদ্ধার হওয়া বনমোরগের প্রকৃত মালিক দাবি করেন, পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন বিভাগের পক্ষ থেকে মোরগ অবমুক্ত করার একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছবিতে দেখা মোরগটি তার কাছ থেকে নেওয়া মোরগটির সঙ্গে মেলে না। তিনি বলেন, ‘আমি যে বনমোরগটি কিনেছিলাম, সেটি দেখতে আলাদা ছিল। পরে যে ছবিটি দেওয়া হয়েছে, সেটি একেবারেই অন্য মোরগ—দেখে মনে হয়েছে দেশি মোরগ।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব হোসেনও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান, বনমোরগটি জব্দ করার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং নিজের মোবাইলে ওই মোরগের ছবিও তুলেছিলেন। রাকিব হোসেন বলেন, ‘বনমোরগটি আটক করার সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম। নিজের মোবাইলে ছবিও তুলেছি। কিন্তু পরে যে মোরগ অবমুক্ত করা হয়েছে, সেটির সঙ্গে উদ্ধার করা বনমোরগটির কোনো মিল পাইনি। এটা স্পষ্টই দেশি মোরগ।’
প্রত্যক্ষদর্শীদের এমন অভিযোগে ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম। তিনি দাবি করেছেন, জব্দ করা বনমোরগটিই নিয়ম অনুযায়ী বনে অবমুক্ত করা হয়েছে এবং এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। তবে উদ্ধার হওয়া আসল বনমোরগটি কোথায় গেল এবং ছবিতে দেখা দেশি মোরগ সদৃশ পাখিটি কোথা থেকে এল—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা সংশয় ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।