০৪ মার্চ ২০২৬, ১৮:৫৫

প্রেমের টানে প্রেমিকার সঙ্গে সাক্ষাৎ—দু’জনকেই গাছের সাথে হাত-পা বাঁধার পর...

দু'জনকে হাতে-পায়ে দড়ি শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করে স্থানীয়রা  © টিডিসি ফটো

প্রেমের টানে প্রেমিকার সাথে দেখা করতে এসেছিলেন যুবক কবিরুল ইসলাম। কিন্তু বিধি বাম। এক ঘরে সময় কাটানো অবস্থায় এলাকাবাসীর হাতে-নাতে ধরা পড়ে তারা। তারপর তাদের দুজনকে গাছের সাথে হাত-পায়ে দঁড়ি ও শিকল বেঁধে নির্যাতন করেন স্থানীয়রা। এমন একটি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। 

বুধবার (০৪ মার্চ) সকালে পাবনার ঈশ্বরদীত উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারী খড়েরদায়ের গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার কাঠালপাড়া এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে কবিরুলের সঙ্গে ওই গ্রামের সুমি খাতুন নামে এক তরুণীর পূর্বপরিচয় ছিল। অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও ওই তরুণীকে ঘিরে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) কোনো এক সময় কবিরুল ওই তরুণীর বাড়িতে আসেন এবং সেখানে রাত্রীযাপন করেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

বুধবার সকালে একটি ঘরের ভেতরে তাদের একসঙ্গে দেখতে পেয়ে সন্দেহ হলে এলাকাবাসী হাতেনাতে আটক করে। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের দু'জনকে গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে।

এলাকাবাসীর দাবি, এ ধরনের ঘটনা যেন ভবিষ্যতে না ঘটে সেজন্য সামাজিকভাবে কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত এই জুটিকে বর্বর কায়দায় হাতে-পায়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে ও পায়ে শিকল পড়িয়ে নির্যাতন না করে প্রশাসনের হাতে দেয়া যেতো বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।

এ বিষয়ে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) এর পাবনা জেলা মনিটরিং অফিসার কামাল আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, এটি একটি অমানবিক কাজ। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। একটি সভ্য রাষ্ট্রে এমন কাজ নিন্দনীয়। যারা এর সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত। 

এ ব্যাপারে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মমিনুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনা জেনেছি। কিন্তু ঘটনাস্থল আমার না হওয়ায় বিষয়টি সদর থানাকে জানানো হয়েছে। 

এদিকে পাবনা সদর থানার ওসি দুলাল হোসেন বলেন, আমার বিষয়টি জানা নেই। আপনার কাছে প্রথম শুনলাম৷ খোজখবর নিয়ে দেখছি।