জমির বিরোধে প্রতিপক্ষের মারধরে দাখিল পরীক্ষার্থীর মৃত্যুর অভিযোগ
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের মারধরে জাকারিয়ার সরকার জামিল (১৬) নামের এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার (১ মার্চ) বিকেলে উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের নলডাঙ্গা গ্রাম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত জামিল ওই গ্রামের সৌদিপ্রবাসী মাহাবুব আলমের ছেলে এবং স্থানীয় কান্তনগর মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী ছিল।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই গ্রামের বেলাল মিয়া ও আমেনা বেগমের সঙ্গে জামিলের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে গত ২২ ফেব্রুয়ারি বেলাল মিয়ার নেতৃত্বে একটি দল দলবদ্ধ হয়ে জামিলদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে লাঠি ও ধারাল অস্ত্রের আঘাতে জামিলসহ তার পরিবারের বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন ।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে বুকে আঘাতপ্রাপ্ত জামিলকে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বাড়িতে রেখেই চিকিৎসা দেন। তবে অবস্থার অবনতি হতে থাকলে রবিবার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু রংপুরে নেওয়ার পথেই মারা যায় জামিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
নিহত জামিলের চাচা বাবুল মিয়া বিলাপ করে বলেন, ‘আমার ভাতিজা অত্যন্ত মেধাবী ছিল। সামনে দাখিল পরীক্ষা ছিল তার। কিন্তু বেলাল মিয়াদের লাঠির আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।’
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জামিলের বাবা মাহাবুব আলম দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে প্রবাসী জীবনযাপন করছেন। তার একমাত্র ছেলের মৃত্যুর খবরে তিনি শোকে মুহ্যমান। নিহতের মা ও দুই বোনের কান্নায় পুরো বাড়িতে শোকের মাতম চলছে।
এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলিম বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে খবর পেয়েছি, ছেলেটি কয়েক দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত ছিল। তবে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’