২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৫০

রাশেদ খানের সামনেই বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ১০

রাশেদ খানের সামনে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ  © প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খানের নির্বাচনী কার্যালয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে কালীগঞ্জ থানার সামনে অবস্থিত কার্যালয়টিতে এই সংঘাত বাধে, যা একপর্যায়ে থানা চত্বর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে পুলিশের দুই সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ঝিনাইদহ-৪ আসনের প্রার্থী রাশেদ খান নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা অবস্থায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

নির্বাচনী কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষন ও পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে শুক্রবার সকালে এই সমন্বয় সভার আয়োজন করেছিলেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সভায় মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের বিরুদ্ধে ধানের শীষের বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগ তোলেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাজাহান আলী। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষ চলাকালে এক পক্ষ দৌড়ে কালীগঞ্জ থানা চত্বরে আশ্রয় নিলে প্রতিপক্ষ সেখানে ঢুকেও হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে নেতা-কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এই ঘটনায় আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এএসআই জাহিদ, কনস্টেবল পিকুল ও সেলিমের নাম জানা গেছে, যাদের মধ্যে দুইজনকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী রাশেদ খান বলেন, ‘আমি কালীগঞ্জে এসেছি শুনে অনেক নেতাকর্মী আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য কার্যালয়ে আসেন। সেখানে নেতাকর্মীদের দুটি পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে আমি উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। পরিস্থিতি ঠিক আছে।’

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘থানার সামনেই ঝিনাইদহ-৪ আসনের ধানের শীষের নির্বাচনী কার্যালয়। ওই কার্যালয়ে বিএনপির কর্মীদের সমন্বয় সভা চলছিল। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। পরে তাদের একটি পক্ষ থানায় ঢুকে পড়লে অপরপক্ষ থানা এলাকার মধ্যে ঢুকে হামলা চালিয়েছে। হামলার ঘটনায় পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন।’