মুক্তাগাছায় ৩ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা এক এনজিও
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় সিভিল স্যোসাইটি সাপোর্ট প্রোগ্রাম (সিএসএসপি) নামের একটি এনজিও প্রায় ৩ শতাধিক সদস্যের জমা করা প্রায় ৩ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে। বৃহস্পতিবার ( ২৬ ফেব্রুয়ারি) হঠাৎ করেই কার্যালয় তালাবদ্ধ করে পালায় এনজিওটি। ওই দিনই সদস্যদের ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে উপজেলা শহরের পয়ারকান্দি এলাকার ওই এনজিও কার্যালয়ের সামনে সদস্যরা ভিড় করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০ ফেব্রুয়ারি মুক্তাগাছা শহরের পয়ারকান্দি এলাকার আমজাদ আলীর বাড়ি ভাড়া নিয়ে কার্যালয় খোলে সিএসএসপি। বাড়ির মালিকের পুত্রবধূ ঈশিতা আক্তার মিনারাকে ক্যাশিয়ার করা হয়। ভুয়া এনজিওর ম্যানেজার জুয়েল ভিন্ন গ্রামে গিয়ে ৩ শতাধিক ব্যক্তিকে সদস্য ফি বাবদ ১২০ টাকা এবং ঋণ দেওয়ার কথা বলে জনপ্রতি ১১ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় গ্রহণ করেন।
সদস্যদের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে ঋণ নেওয়ার জন্য তারা কার্যালয়ে গেলে অফিস তালাবদ্ধ ও সাইনবোর্ড নামানো দেখা যায়। এ ঘটনায় তারা তাদের সঞ্চিত টাকা উদ্ধারের আশায় কার্যালয়ের সামনে ভিড় করেছেন।
কুমারগাতা ইউনিয়নের ঘোষবাড়ী এলাকার শিরিনা আক্তার (২৬) বলেন, সাত দিন আগে দুই বছর মেয়াদি ঋণের আশায় ৬২০ টাকা দিয়ে ভর্তি হই। পরে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়ার কথা বলে ১৩ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা করি। কিন্তু বৃহস্পতিবার ১২টায় ঋণ নিতে এসে দেখি অফিস তালাবদ্ধ। আমরা এখন অনেক সমস্যায় পড়েছি।
মানকোন গ্রামের নার্গিস আক্তার (৪৫) বলেন, ম্যানেজার জুয়েল ও ক্যাশিয়ার মিনারা বাড়ি এসে ঋণের আশ্বাস দিয়ে সদস্য করে রেখেছে। আমরা তিন দিন আগে ৭০ হাজার টাকা সঞ্চয় দিয়েছি, কিন্তু এখন তারা নেই। আমরা চাই প্রতারকদের বিচার হোক।
বাড়ি ভাড়ার সঙ্গে যুক্ত আমজাদ আলীর ছেলে রাসেল বলেন, কিছুদিন আগে ম্যানেজার জুয়েল রানা আমার বাড়ি ভাড়া নেয়। কিন্তু তাদের সঙ্গে ঠিক মতো চুক্তি ও ভাড়া দেওয়া হয়নি। মঙ্গলবারের পর থেকে তাদের খুঁজে পাইনি।
ঈশিতা আক্তার মিনারা নিজে হাতে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। এনজিওর ম্যানেজার জুয়েল মোবাইলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদস্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।