গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, শিক্ষিকার মৃত্যু
সেহরির রান্না করতে গিয়ে গ্যাস লাইনের লিকেজ বিস্ফোরণে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে সোনিয়া জান্নাত ওরফে পিংকি (৩০) নামের এক স্কুল শিক্ষিকার। তিনি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার মামুদপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। স্বামীর চাকরির সুবাদে তিনি ঢাকায় বসবাস করতেন।
নিহত শিক্ষিকা পিংকির বাবার নাম শাহজাহান মিয়া এবং তার বাবার বাড়ি মোহনগঞ্জ উপজেলার মামুদপুরে। অন্যদিকে, তার স্বামী রুমান মিয়ার (৩৫) গ্রামের বাড়ি খালিয়াজুরী উপজেলার বোয়ালী গ্রামে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নিহতের মরদেহ ঢাকা থেকে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে নিয়ে আসা হয়। সেখানে মামুদপুরে তার বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে জোহরের নামাজের পর তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। একজন শিক্ষিকার এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে (বুধবার সেহরির সময়) রাজধানীর রায়ের বাজারের বাসায় গ্যাস লাইনের লিকেজ বিস্ফোরণে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ওই বাসার গ্যাস লাইনে লিকেজ ছিল। সেহরির সময় রান্না করার জন্য তিনি যখন চুলায় আগুন ধরাতে যান, তখন মুহূর্তেই পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়ে পিংকি মারা যান।
রায়ের বাজারের ওই বাসায় স্বামী, আড়াই বছরের সন্তান ও ছোট ভাইসহ চারজন একসাথে থাকতেন। আগুনে দগ্ধ বড় বোন পিংকিকে বাঁচাতে গিয়ে তার ছোট ভাই অপু (১৮) মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। তার হাত, পা, মুখমণ্ডলসহ শরীরের অধিকাংশ পুড়ে যায়। তিনি একটি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করেন।
নিহত পিংকির আড়াই বছর বয়সী শিশু সন্তান সানাফ সুস্থ ও অক্ষত এবং নিহতের রুমান মিয়া (৩৫) তারা বর্তমানে সুস্থ আছেন। স্থানীয় ও মোহনগঞ্জ থানা সূত্রে এ সকল তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।