ফুলবাড়ীয়ায় ২৫৭ বছরের প্রাচীন মুঘল মসজিদ কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে এখনো
মুঘল আমলের স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত ২৫৭ বছরের পুরোনো একটি গম্বুজ মসজিদ এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার জোরবাড়ীয়া গ্রামে। দুই পাশে পুকুর ও গোরস্তান, পাশে মানতের ‘বিবিঘর’—সব মিলিয়ে ইতিহাস আর ঐতিহ্যের অনন্য সাক্ষী এই স্থাপনাটি। নতুন করে রং করায় এখনো দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা।
জোরবাড়ীয়া গ্রামের খানবাড়িতে মুঘল আমলে দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি নির্মাণ করেন তৎকালীন প্রভাবশালী আয়াত খান নামের দানশীল ব্যক্তি। মসজিদের পাশেই নির্মাণ করেন বিবিঘর। বিবিঘর নিয়ে নানান কথা প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই বলে থাকেন, এলাকায় কেউ অসুস্থ হলে সুস্থতার জন্য মানত করত। মানতের চাল-ডাল এখানে রেখে যেত। যদিও এখন আর কেউ বিবিঘর ব্যবহার করেন না।
দৃষ্টিনন্দন এক গম্বুজাকার মসজিদের পেছনে রয়েছে ৫২ শতাংশ জমিতে খনন করা করা একটি পুকুর। মসজিদের সামনে রয়েছে শানবাঁধানো ঘাটের এক একর জমির অপর একটি পুকুর। মসজিদের দুই পাশে রয়েছে গোরস্তান। এলাকার কেউ মারা গেলে এখানে দাফন করা হয়ে থাকে। এই দাফনের কাজ চলছে অতি প্রাচীনকাল থেকে। আয়াতখান মারা যাওয়ার আগে ৭ একর জমি লিখে দিয়ে যান মসজিদের নামে। ওই জমির টাকা দিয়েই চলছে ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন।
মসজিদটির চার কোনায় চারটি পিলার রয়েছে, যার উপরিভাগ কলসি দিয়ে গম্বুজাকার কারুকার্যমণ্ডিত। চৌকোন বিশিষ্ট মসজিদটির ছাদজুড়ে একটি মাত্র বিশালাকার গম্বুজ রয়েছে। নির্মাণশৈলী ও অবকাঠামো দেখে ধারণা করা হয়, পোড়ামাটি, লালি, চুন, চিনি, চিটাগুড়, কস এবং এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে এই প্রাচীন মসজিদ নির্মিত হয়েছিল।
মসজিদটি ছোট আকারের তৈরি করা হয় ওই সময়কার জনসংখ্যার অনুপাতে। তবে মসজিদটি এখনো বেশ টেকসই। এর দেয়াল এতই পুরো মাঝখানে দাড়িয়ে দুই হাত দিয়ে দেয়াল ধরা যায় না। জনসখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পুরাতন মসজিদের সঙ্গেই নতুন করে একটি সম্প্রসারিত মসজিদের ঘর নির্মান করা হয়েছে। কিন্তু ২৫৭ বছরের পুরাতন স্থাপনাটির কোনো ক্ষতিসাধান করা হয়নি।
খাইরুল ইসলাম নামের এক মুসল্লি জানান, সম্প্রসারিত মসজিদের চেয়ে পুরাতন মসজিদের ভিতরে বেশ শীতল অনূভূতি লাগে। এর দেয়ালগুলো বেশ পুরু। মাঝখানে দাড়িয়ে দুই হাত দিয়ে মসজিদের দেয়াল ধরা যায় না।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদকত কবির খান বলেন, ‘আমাদের জন্মের বহু আগে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। আমরা আমাদের বাবার মুখে পুরাতন মসজিদের ইতিহাস শুনেছি। জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পুরাতন মসজিদের সঙ্গেই অপর একটি মসজিদ বানানো হয়েছে। ওই সময় আমরা পুরাতন মসজিদটি ভেঙ্গে ফেলার উদ্যোগ গ্রহন করেছিলাম। কিন্তু সে সময় প্রকৌশলীরা বলেছেন, আপনাদের নতুন ভবনের চেয়ে পুরাতন ভবন এখনো বেশ শক্ত আছে। আরও একশ বছরেও কিছু হবে না।’
মসজিদ কমিটির সভাপতি আবু তাহের মো. মজিবর রহমান খান বলেন, ‘আমরা আমাদের নিজ উদ্যোগে মসজিদটি সংস্কারসহ রঙের কাজ করেছি। আজ পর্যন্ত সরকারি কোনো অর্থসহায়তা আমরা পাইনি। সরকারিভাবে অর্থ বরাদ্দ পেলে ২৫৭ বছরের মসজিদটি সংস্কার কাজ করলে প্রাচীণ ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি যুগের পর যুগ কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকত।’