২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:১০

সাতক্ষীরায় মুকুলে ছেয়ে গেছে গাছ, ৫০ হাজার আমচাষির চোখে সোনালি স্বপ্ন

একটি আমবাগানের গাছে দেখা যাচ্ছে প্রচুর মুকুল  © টিডিসি

ঋতুরাজ বসন্তের ছোঁয়ায় আগেভাগেই সোনালি মুকুলে সেজে উঠেছে সাতক্ষীরার আমবাগানগুলো। অনুকূল আবহাওয়া আর গাছে গাছে ভরপুর মুকুল দেখে নতুন স্বপ্ন বুনছেন জেলার প্রায় ৫০ হাজার আমচাষি। উৎপাদন বাড়ার আশায় চাষিরা যেমন ব্যস্ত পরিচর্যায়, তেমনি কৃষি বিভাগও ধরেছে উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা—ফলন ও রপ্তানিতে এবার নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে বলেই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে জেলায় মোট ৪ হাজার ১৩৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হিমসাগর ৮৯৯ হেক্টর, আম্রপালি ৫৬৪ হেক্টর, গোবিন্দভোগ ৩৮২ হেক্টর, গোপালভোগ ২১৯ হেক্টর, লতা ১৪৩ হেক্টর, মল্লিকা ৮০ হেক্টর, বোম্বাই ৫০ হেক্টর এবং অন্যান্য স্থানীয় জাত ২৪৩ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।

উপজেলাভিত্তিক আবাদ চিত্রে দেখা যায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ১,২৫০ হেক্টর, কলারোয়ায় ৬৫৮, তালায় ৭১৫, দেবহাটায় ৩৭০, কালীগঞ্জে ৮৩৯, আশাশুনিতে ১৪৫ ও শ্যামনগরে ১৬০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ রয়েছে।

গত মৌসুমে জেলায় আম উৎপাদন হয়েছিল ৭০ হাজার ৮৮০ টন। চলতি মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ৯০০ টন। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

বর্তমানে জেলায় আমবাগানের সংখ্যা ৫ হাজার ২৯৯ এবং মোট আমচাষির সংখ্যা ৫০ হাজার ৭৪৫ জন। এর মধ্যে নিবন্ধিত চাষি রয়েছেন ৩৫১ জন। মুকুল আসার পর থেকেই চাষিরা বাগানের পরিচর্যা জোরদার করেছেন। রোগবালাই দমনে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক প্রয়োগ ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চলছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাগানমালিক সিরাজুল ইসলাম  বলেন, ‘এবার গাছে গাছে যে পরিমাণ মুকুল এসেছে, তাতে আমরা খুবই আশাবাদী। সময়মতো পরিচর্যা করছি, কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী স্প্রে দিচ্ছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন ভালো হবে ইনশাআল্লাহ। গত বছরের চেয়ে এ বছর উৎপাদন বাড়বে বলেই আশা করছি। দামও যদি ভালো পাই, তাহলে আমাদের কষ্ট সার্থক হবে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরার মাটি ও আবহাওয়া আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ বছর ৪ হাজার ১৩৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার ৯০০ টন। কৃষকদের নিরাপদ ও গুণগত মানসম্পন্ন আম উৎপাদনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

রপ্তানির ক্ষেত্রেও আশাবাদী কৃষি বিভাগ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে সাতক্ষীরা থেকে ১৮০ টন আম বিদেশে রপ্তানি হয়েছিল। ২০২৩-২৪ সালে রপ্তানি হয় ৬০ টন এবং ২০২৪-২৫ মৌসুমে ৭২ টন আম রপ্তানি হয়েছে। চলতি মৌসুমে অন্তত ১০০ টন আম রপ্তানির লক্ষ্যে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

সবমিলিয়ে, মুকুলে সেজে ওঠা আমবাগান ঘিরে উৎপাদন, বাজারজাত ও রপ্তানির সম্ভাবনায় নতুন আশার আলো দেখছে সাতক্ষীরা। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে এ বছরও দেশের বাজারে প্রথম আম সরবরাহ করে সুনাম ধরে রাখবে এ জেলা, এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।