ওমরাহ পালনে গেল হাসি মুখে, বাবা-মাকে হারিয়ে একা ফিরল ছোট্ট ফাইজা
বয়সটা এত অল্প যে এখনও পৃথিবীর জটিল সব হিসাব বুঝে উঠতে পারছে না ছোট্ট ফাইজা । সে জানেই না তার জীবনে আর কোনো-দিন বাবা-মা ডাকার সৌভাগ্য হবে না। সৌদি আরবে পরিবারের সঙ্গে ওমরাহ করতে গিয়েছিল ফাইজা, ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মাসহ ও দুই বোনকে হারিয়ে নিস্তব্ধ হয়ে গেছে ছোট্ট শিশুটির জীবন।
আজ সোমবার আজ সোমবার সকালে মামার সঙ্গে সৌদি আরব থেকে বাড়িতে পৌঁছায় আট বছর বয়সী ফাইজা । তার ছোট্ট শরীরে এখনো দুর্ঘটনার ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট, ঠিকমতো পা ফেলতে পারছে না। দুর্ঘটনার ভয়াবহতার কারণে কথাও বলছে খুব কম।
পরিবারের সিদ্ধান্তে বাবা–মা ও দুই বোনের মৃত্যুর খবর এখনো তাকে জানানো হয়নি। সে জানে, দুর্ঘটনার পর তারা হাসপাতালে ভর্তি আছেন। মাঝেমধ্যে সে মাকে খোঁজে, বাবার কথা জিজ্ঞেস করে। উত্তর দিতে গিয়ে স্বজনদের চোখ ভিজে ওঠে, কিন্তু সত্যটা বলতে পারেন না তারা।
তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে সরল বিশ্বাসে ফাইজা জানায়, তার মতোই বাবা, মা ও বোন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং শিগ্গিরই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে। এরপর সবাই মিলে ঈদ উদ্যাপন করবে। নতুন জামা পরে সে বাবার সঙ্গে ঈদের মেলায় যাবে। সঙ্গে থাকবে তার দুই বোন। ঈদের দিন তারা অনেক আনন্দ করবে।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত তিনটার দিকে সৌদি আরবের আবহা শহরে ওমরাহ পালন শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয় তাদের গাড়ি। এতে ফাইজার বাবা মিজানুর রহমান (৪২), মা মেহের আফরোজ সুমি (৩০), বড় বোন মোহনা (১৩) ও দেড় বছরের শিশু সুবাহসহ পাঁচ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।
তার মামা তানভীর হোসেন জানান, ফাইজাকে নিয়ে গতকাল বেলা সাড়ে তিনটায় সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেন। পুরো যাত্রাপথ সে নিস্তব্ধ ছিল। শিশুটি এখনো জানে না তার পৃথিবী ভেঙে গেছে, আশায় আছে, হাসপাতাল থেকে মা–বাবা ও বোনেরা ফিরবে।