২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:১৮

একুশে পদক পাচ্ছেন কিশোরগঞ্জের ইসলাম উদ্দিন পালাকার

ইসলাম উদ্দিন  © সংগৃহীত

লোকজ সংস্কৃতি ও পালাগানের উজ্জ্বল নক্ষত্র জেলা কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ নোয়াবাদ এলাকার ইসলাম উদ্দিন পালাকার পাচ্ছেন দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক। ২০২৬ সালের জন্য নাট্যকলা বিভাগে তার নাম ঘোষণা করেছে সরকার। গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন। দীর্ঘদিন ধরে লোকসংগীত ও গ্রামীণ পালাগানে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।

‎ইসলাম উদ্দিন পালাকারের শুরুটা হয়েছিল যাত্রাপালায় অভিনয় দিয়ে। বড় দুই ভাই যাত্রাপালায় অভিনয় করতেন। ছোট ভাই ইসলাম উদ্দিন মুগ্ধ হয়ে তা দেখতেন। অভিনয়ের নেশা মাথায় চেপে বসে। মাত্র ১৩ বছর বয়সেই মঞ্চে উঠেন৷ এরপর আশির দশকের শেষের দিকে আরেক বিখ্যাত লোকশিল্পী নেত্রকোনা জেলার কুদ্দুস বয়াতির পরিবেশনা দেখে পালাগানের প্রতি মোহ জন্মে ইসলাম উদ্দিনের। সিদ্ধান্ত নেন পালাগান তাকে শিখতেই হবে। কুদ্দুস বয়াতিকে ওস্তাদ মেনে ১৭ বছর বয়সে পালাগানের নেশায় ঘর ছাড়েন ইসলাম উদ্দিন। ইসলাম উদ্দিনের পালাকার হয়ে ওঠার যাত্রা সেই থেকে শুরু। চার দশকের ক্যারিয়ারে পালাগান নিয়ে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পৌঁছে গেছেন বিদেশেও। ১৯৯৯ সালে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ ফেস্টিভালে পালাগান করেছেন৷ ফ্রান্স ও ভারতেও মঞ্চ কাঁপিয়েছেন। ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা বিভাগে অতিথি প্রশিক্ষক ছিলেন। তিনি জনপ্রিয়তা পেলেও এখনো গ্রামেই থাকেন ইসলাম উদ্দিন পালাকার।

‎একুশে পদক প্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে ইসলাম উদ্দিন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের এই প্রতিবেদক বলেন, ‘এটা আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ একটি পুরস্কার। এই সম্মান পেয়ে আমি ভীষণ গর্বিত। অনেক দিন ধরেই একটা আশা ছিল। মনে মনে ভাবতাম, আল্লাহ যদি একটু দয়া করতেন! আমি যদি একুশে পদক পেতাম, তাহলে জীবনটা ধন্য হতো। এবার আমার মনের আশা পূরণ হতে যাচ্ছে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে একুশে পদক গ্রহণ করতে যাচ্ছি৷ আমাকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করায় সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

‎এদিকে পুরস্কারের খবর জানাজানি হওয়ার পর থেকে ইসলাম উদ্দিনের বাড়িতে ভিড় করেছেন বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ। কেউ ফুল নিয়ে আসছেন আবার কেউ শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।

‎তার পরিবেশিত পালাগানের মধ্যে রয়েছে ‘মতিলাল’, ‘কমলা রাণীর সাগরদিঘী’, ‘রূপকুমার’, ‘সুন্দর মতি’, ‘রাম বিরাম’, ‘উথুলা সুন্দরী’, ‘ফিরোজ খাঁ’, কাকাধরের খেলাসহ আরও অনেক।

‎উল্লেখ্য, ইসলাম উদ্দিন পালাকার দীর্ঘদিন ধরে পালাগান ও লোকজ নাট্যকলাকে ধারণ করে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তার কণ্ঠ, পরিবেশনা ও শিল্পচর্চা গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্য রক্ষায় অনন্য অবদান হিসেবে বিবেচিত।