২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:৫৮

বিষ প্রয়োগে অর্ধশত বিঘা জমির ফসলী পেঁয়াজ ক্ষতিগ্রস্ত

ক্ষতিগ্রস্ত পেঁয়াজের ফসল  © টিডিসি ফটো

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার শৌলকোপা বিল এলাকায় বিষ প্রয়োগে অন্তত ৫০ বিঘা জমির পেঁয়াজ নষ্ট করে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে প্রায় ৩০ জন কৃষক ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। হঠাৎ ফসল বিনষ্ট হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

জানা যায়, চলতি মৌসুমে শৌলকোপা বিল এলাকায় কয়েকশ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছিলেন স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকার কৃষকেরা। ভালো ফলনের আশায় তারা নিয়মিত পরিচর্যা ও সেচ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু কয়েকদিন আগে রাতের অন্ধকারে কে বা কারা অন্তত ৫০ বিঘা জমিতে বিষ প্রয়োগ করে। এরপর থেকেই জমিতে গোড়াপচা দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে গাছ শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানান, অনেকেই ধার-দেনা, ব্যাংক ঋণ ও এনজিও থেকে অর্থ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন। ফসল ঘরে তুলতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি ছিল। এমন সময় এই নাশকতায় তারা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ঋণ পরিশোধ ও পরিবার নিয়ে সারা বছর চলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বশার মোল্যা বলেন, প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কেউ দুই, কেউ তিন, আবার কেউ পাঁচ বিঘা জমিতে চাষ করেছি। কয়েকদিন পরই পেঁয়াজ তুলতাম। এর মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল।

ঘটনার পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্যারাকুয়েট জাতীয় আগাছানাশক প্রয়োগের কারণে গাছগুলো ধীরে ধীরে শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। কৃষকদের ছত্রাকনাশক স্প্রে, পটাশ প্রয়োগসহ বিভিন্ন প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে আংশিক ক্ষতি রোধ করা যায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। সম্ভাব্য প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আজাদ ফকিরের ছেলে জাহিদ ফকির পশারগাতী ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের হান্নু শেখকে বিবাদী করে মুকসুদপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কৃষিজমিতে এ ধরনের নাশকতা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থার জন্যও বড় হুমকি।