১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৫৬

বনদস্যু আতঙ্কে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ, দুবলারচরে জেলেদের মধ্যে ভয়-অনিশ্চয়তা

দুবলারচরে মাছ শুকাচ্ছেন দুই নারী  © টিডিসি

বনদস্যুদের আতঙ্কে সুন্দরবন উপকূলের দুবলারচরে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন ১০ হাজারের বেশি শুঁটকিকরণ জেলে। সোমবার রাতে অপহৃত ২০ জেলের দুই দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। নিরাপত্তার অভাবে জেলেরা চরে অবস্থান নিয়ে বসে থাকায় রাজস্ব ঘাটতি ও স্থানীয় বাজারে মাছের সরবরাহের বিঘ্নের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জেলেদের সংগঠন দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে বনদস্যুদের হাতে অপহরণের ভয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে জেলেরা সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন। মৌসুমের শেষ সময়ে এমন পরিস্থিতিতে আয়-রোজগার নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

তিনি দাবি করেন, সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে চারটি বনদস্যু গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তারা জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছে। টাকা দিতে না পারলে মারধরের অভিযোগও করেন তিনি। গত সপ্তাহে দস্যুদের হামলায় আহত চার জেলে বর্তমানে রামপাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানান।

আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, আগে প্রবাদ ছিল ‘জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ’, এখন যুক্ত হয়েছে ‘সাগরে গেলে ডাকাত’। গত ১৫ দিনে বহু জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। বর্তমানে শতাধিক জেলে দস্যুদের কব্জায় রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সোমবার রাতে অপহরণের সময় দস্যুরা একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে গেলেও এখনো যোগাযোগে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের জেলেপল্লি দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় বলেন, দস্যু আতঙ্কে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রাখায় রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

একই বিভাগের শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান জানান, বনদস্যু আতঙ্কে জেলেরা সুন্দরবনে মাছ ধরার জন্য পাস নিচ্ছেন না। এতে মাসিক রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।

শরণখোলা বাজারের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী জালাল মোল্লা, আনোয়ার সওদাগর ও রিপন হাওলাদার বলেন, জেলেরা সুন্দরবনে না যাওয়ায় তাদের বেচাকেনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছেন।