১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:০৬

কক্সবাজার-৪ আসন: সেন্টমাটিনসহ কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে ব্যালট

নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে বিভিন্ন কেন্দ্রে  © টিডিসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ উপলক্ষে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সেন্টমার্টিন দ্বীপসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ব্যালট পেপার ও নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে টেকনাফ উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হয়। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হবে ভোট গ্রহণ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শুরুতে কোস্টগার্ডের নিরাপত্তায় সেন্টমাটিন দ্বীপ ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। দ্বীপে কোস্টগার্ডের পাশাপাশি নৌবাহিনী, বিজিবিসহ পুলিশ ভোটে দায়িত্ব পালন করবে। একই দিনে ধাপে ধাপে উপজেলার সব ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্র দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় ব্যালট পাঠানো হচ্ছে।

এ কার্যক্রমের তত্ত্বাবধানে থাকা টেকনাফ উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, ‘কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ব্যালট পেপার কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত বিধিবিধান মেনেই ব্যালট পেপার সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। শুরুতে সেন্টমাটিনসহ ধাপে ধাপে সব কেন্দ্রে নিরাপত্তা দিয়ে ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভোটে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

জানা গেছে, আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ আসনের ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় নির্বাচনের আগের দিন সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পৌঁছে দেওয়া হবে। এ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী। জামায়াতের প্রার্থী কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমির ও টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চারবারের চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মাওলানা নুরুল হক এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) থেকে সাইফুদ্দিন খালেদ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্রে ভোটের মূল লড়াই বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, এ আসনে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে উখিয়া উপজেলায়। সেখানে ৫৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩২টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। টেকনাফে ৬১টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৭টি ঝুঁকিপূর্ণ। উখিয়া ও টেকনাফ মিলিয়ে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮১৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৮২ জন, নারী ১ লাখ ৮২ হাজার ৫৫১ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৬ জন।

আগামীকাল সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছেন।

এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, সকাল ১১টা থেকে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঠানো শুরু হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় সব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে।