০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২৮

অচল চট্টগ্রাম বন্দরে ফের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু

পুলিশের অবস্থান  © সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা না দেওয়ার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেছে ।

আজ রবিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল আটটা থেকে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ এ ধর্মঘট ডেকেছে। এর ফলে বন্দরের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধর্মঘট শুরু হওয়ার পর থেকে জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, প্রশাসনিক ভবন এবং আউটার লাইটারেজ পণ্য খালাস ও পরিচালনা কাজ বন্ধ রয়েছে।

তবে এমন পরিস্থিতিতে প্রায় ২০০ সাধারণ কর্মচারী ও শ্রমিককে সকাল সাড়ে ৯টার জরুরি সভায় ডাকা হলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। সকাল থেকে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গতকাল দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবি উত্থাপন করে অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘট কর্মসূচি ঘোষণা করেন বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন। দাবিগুলো হলো-

চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহার, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাসহ সব ধরনের আইনি হয়রানি বন্ধ করা।

বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খোকন জানান, সকাল ৮টা থেকে সব ধরনের কাজ বন্ধ রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলবে।

পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির জানান, গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দৈনিক আট ঘণ্টা এবং ৩ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা কর্মবিরতি পালনের পর নৌ উপদেষ্টার আশ্বাসে শুক্র ও শনি এ দুইদিন কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়। তবে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় এমন কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

এদিকে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, গতকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে আমাদের নেতাদের হয়রানি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমাদের দুই শ্রমিক নেতা শামসু মিয়া টুকু ও আবুল কালাম আজাদকে প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে। এভাবে ভয় দেখিয়ে আন্দোলন দমানো যাবে না।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, বন্দরের নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা সবসময় সতর্ক রয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।