নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ করতে হবে: ইসি কমিশনার
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ করতে হবে। নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করবেন, মিডিয়া করে দেবেন। সবকিছু খোলামেলাভাবে করবেন, কোন লুকাছাপা নেই। নিরপেক্ষতার প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন শক্ত অবস্থান নিয়েছে এবং নেবে। আমাদের দায়িত্বা পছন্দ-অপছন্দ ব্যক্তিকে নাগরিকের ভোট দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমি যখন পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করছি শতভাগ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশাল সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ডিজিটাল সেল ও পর্যবেক্ষণ টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা করেন।
সানাউল্লাহ বলেন, নির্দেশনার পরেও যদি কেউ তার পছন্দ অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠতে না পারেন, পক্ষপাতিত্ব করেছেন তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরিণতি খুব খারাপ হবে। নির্বাচন কমিশন খুব কঠিন হবে এ ব্যাপারে।
আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর উদ্দেশে ইসি কমিশনার বলেন, দৃঢ়ভাবে কাজ করতে হবে। আপনি দৃঢ় থাকলে কেউ সুযোগ নেবে না। তবে শুধু বল প্রয়োগ নয়, মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে হবে।
তিনি জানান, প্রবাসীদের ব্যালটে মোট ১১৯টি প্রতীক থাকায় গণনায় কিছুটা সময় বেশি লাগতে পারে। ব্যালট নিরাপত্তায় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। লাইভ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক থাকায় জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই।
ভোটকেন্দ্রে সরঞ্জাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা তুলে ধরে সানাউল্লাহ বলেন, শুধু প্রিজাইডিং অফিসার কলম ব্যবহার করতে পারবেন। অন্য কর্মকর্তাদের জন্য থাকবে পেন্সিল। প্রতিটি আসনে ১০ জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন।
মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ভোট কেনাবেচা ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে অর্থ লেনদেনে সীমা নির্ধারণ করা হবে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের কোনো ধরনের আপ্যায়ন গ্রহণ না করার নির্দেশনা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, অপতথ্য প্রতিরোধে দ্রুত সঠিক তথ্য প্রচার করতে হবে। পাশাপাশি বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও আহত ভোটারদের জন্য বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা থাকবে। নির্বাচনকে স্বচ্ছ রাখতে প্রতিটি জেলা ও কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা খাইরুল আলম সুমন। উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপারসহ অন্য কর্মকর্তারা।