২৮ জুলাই ২০২৬, ১৫:৫৮

জাতীয় দক্ষতা সনদধারীদের তিন-চতুর্থাংশ কর্মসংস্থানে যুক্ত

প্রতীকী ছবি   © এআই

জাতীয় দক্ষতা সনদ (এনএসসি) অর্জনকারীদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বর্তমানে চাকরিতে নিয়োজিত অথবা নিজস্ব উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। ফলে সরকারি স্বীকৃত কারিগরি ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের বাজারমূল্য এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দীর্ঘদিনের সংশয় অনেকটাই দূর হয়েছে।

সম্প্রতি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এনএসডিএর ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী সনদপ্রাপ্তরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক—উভয় শ্রমবাজারেই সফলভাবে কাজ করছেন এবং অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।

চলতি বছরের শুরুতে জাতীয় দক্ষতা সনদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও কার্যকারিতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ওঠার পর নিবন্ধিত স্কিলস ট্রেনিং প্রোভাইডারদের (এসটিপি) মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের কর্মসংস্থানের অবস্থা মূল্যায়নে একটি পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম শুরু করে এনএসডিএ।

এই মূল্যায়নে দেখা গেছে, এনএসসি সনদধারীদের ৭৪ শতাংশ বর্তমানে চাকরি করছেন অথবা উদ্যোক্তা হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। কর্মরতদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি দেশের অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারে কাজ করছেন। অন্যদিকে প্রায় এক-চতুর্থাংশ নিজস্ব ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে তুলে স্বনির্ভর হয়েছেন।

বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির আন্তর্জাতিক উপস্থিতির কথা তুলে ধরে ড. নাজনীন বলেন, এনএসসি সনদধারীদের ৮ শতাংশ বর্তমানে বিদেশে কর্মরত। তারা বিশ্বের ছয়টি মহাদেশে বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন।

দেশব্যাপী পরিচালিত এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে দেশের সক্রিয় দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এতে আরও দেখা যায়, ৯০ শতাংশেরও বেশি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান তাদের প্রশিক্ষণার্থীদের চাকরি পেতে সক্রিয় প্লেসমেন্ট সহায়তা প্রদান করছে।

এদিকে, কর্মসংস্থানে এখনও যুক্ত হতে না পারা সনদধারীদের কারণ খুঁজে বের করতে এনএসডিএ একটি বিস্তারিত গবেষণা শুরু করেছে বলেও জানান ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী। তিনি বলেন, গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ কারিকুলামের মানোন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে আরও কার্যকর সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।