ম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়লেন নেইমার
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয়ের শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠের মাঝখানে হাঁটু গেড়ে বসে দুই হাতে মুখ ঢেকে কান্নায় ভেঙে পড়লেন নেইমার জুনিয়র। এটি কেবল আনন্দের কান্না ছিল না; এটি ছিল দীর্ঘ ৯৮২ দিনের জমে থাকা কষ্ট, যন্ত্রণা এবং সীমাহীন ত্যাগের এক আবেগঘন বহিঃপ্রকাশ।
২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে সেই ভয়াবহ এসিএল ইনজুরিতে পড়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন নেইমারের ক্যারিয়ার হয়তো শেষ। কিন্তু দমে যাননি এই সেলেসাও মহাতারকা। দীর্ঘ এই সময়টাতে প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন। নিরলস ট্রেনিং, শত প্রতিকূলতার মাঝেও হার না মানা মানসিকতা এবং ঈশ্বরের প্রতি অগাধ বিশ্বাস তাঁকে টিকিয়ে রেখেছিল। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা আর দেশের জার্সিতে আরেকটি বিশ্বকাপ খেলার তীব্র আকুলতাই আজ তাঁকে মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামের সবুজ মাঠে ফিরিয়ে এনেছে।
ম্যাচের ৭৬ মিনিটে যখন তিনি মাঠে নামলেন, তখনই লেখা হয়ে গিয়েছিল ইতিহাস—পেলে, কাফু আর রোনালদোর পর চতুর্থ ব্রাজিলিয়ান হিসেবে ৪টি বিশ্বকাপে খেলার অনন্য কীর্তি। আর ম্যাচ শেষে তাঁর এই কান্না ছুঁয়ে গেছে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের হৃদয়। নেইমার প্রমাণ করলেন, ইচ্ছা আর ভালোবাসা থাকলে যেকোনো বাধা পেরিয়ে চেনা আঙিনায় রাজা হিসেবেই ফিরে আসা যায়। ফুটবল বিশ্ব আজ সমস্বরে বলছে—‘আমরা তোমায় ভালবাসি, নেইমার। তুমি ফিরে এসেছ!’