২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:০৬

ইসলামী বই মেলায় এলো জবি শিক্ষকের ‘ইসলামী ব্যাংকিং’ বই

বইটির মোড়ক উন্মোচন  © টিডিসি ছবি

রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে চলমান ইসলামী বইমেলা-২০২৬-এ প্রকাশিত হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের(জবি) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ খাইরুল ইসলামের রচিত ‘ইসলামী ব্যাংকিং’ বই। বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ অ্যান্ড লিগ্যাল এইড সেন্টারের প্রকাশনায় বইটি প্রকাশিত হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের পূর্ব গেটে বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়। 

বইটিতে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ধারণা, উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ, মুদ্রাব্যবস্থার ইতিহাস, ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি, বিনিয়োগ ও অর্থসংগ্রহের প্রক্রিয়া এবং বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইসলামী ব্যাংকগুলোর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

লেখক বইটিকে মোট ছয়টি অধ্যায়ে ভাগ করেছেন। প্রথম অধ্যায়ে ব্যাংকের পরিচিতি ও ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এতে প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকে প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ, আধুনিক যুগ এবং উত্তরাধুনিক যুগের ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ভারতীয় উপমহাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ব্যাংক ও ইসলামিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়ে মুদ্রাব্যবস্থার ইতিহাস আলোচনা করা হয়েছে। এতে প্রাক-মুদ্রা ও মুদ্রাব্যবস্থা, প্রাচীনকাল থেকে ডিজিটাল মুদ্রাব্যবস্থা, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগের মুদ্রাব্যবস্থা, ইসলামী যুগের মুদ্রা, খেলাফত ও সুলতানি আমলের মুদ্রাব্যবস্থা, আধুনিক মুদ্রাব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ বিভিন্ন বিষয় স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, হুন্ডি, মানি লন্ডারিং ও আধুনিক কারেন্সি পদ্ধতিও আলোচিত হয়েছে।

তৃতীয় অধ্যায়ে ‘ইসলামী ব্যাংকিং: পরিচিতি, উদ্ভব ও মূল্যায়ন’ শিরোনামে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ধারণা, উৎপত্তি ও বিকাশ এবং আধুনিক ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। এতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বিকাশ ও সংশ্লিষ্ট আইন-কানুন সম্পর্কেও আলোচনা রয়েছে।

চতুর্থ অধ্যায়ে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে অর্থ সংগ্রহ ও বিনিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষভাবে আল-আমানাহ, আল-ওয়াদিয়াহ, আল-মুদারাবা ও আল-মুশারাকার মতো পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বইটিতে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের আমানত গ্রহণ ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুদারাবা ও মুশারাকার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

পঞ্চম অধ্যায়ে অর্থায়নের অন্যান্য পদ্ধতি হিসেবে বাই-মুরাবাহা, মুআজ্জাল, সালাম, সারফ ও ইস্তিসনা প্রভৃতি পদ্ধতি আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক বিভিন্ন লেনদেন ও চুক্তি—যেমন ইজারা, ওয়াকালাহ, কাফালাহ, হাওয়ালাহ ও জু‘আলাহ—সম্পর্কেও আলোচনা রয়েছে।

ষষ্ঠ অধ্যায়ে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইসলামী ব্যাংকগুলোর অবদান বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের যাত্রা শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এর বিকাশ, পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক এবং প্রচলিত ব্যাংকগুলোর ইসলামী ব্যাংকিং শাখা বা উইন্ডোর কার্যক্রম এবং দেশের ব্যাংকিং খাতে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

বইটির লেখক ড. মুহাম্মদ খাইরুল ইসলাম বলেন, “ইসলামিক ব্যাংক একটি প্রতিষ্ঠান, আর ইসলামিক ব্যাংকিং হচ্ছে একটি সিস্টেম।মুদারাবা, মুশারাকা, বাইয়ে মুরাবাহা ও বাইয়ে মুয়াজ্জালের মতো পদ্ধতি ইসলামী ব্যাংকিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও নিয়ম মেনে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি বইটিতে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের যাত্রা ১৯৮৩ সালে শুরু হলেও দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার একটি বড় অংশ এখনো প্রচলিত বা সুদভিত্তিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইসলামী নীতির প্রয়োগ ও এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পাঠকের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেও বইটি লেখা হয়েছে।