১৫ মার্চ ২০২৬, ২২:২২

শেষ হলো ১৭ দিনব্যাপী অমর একুশে বইমেলা, বিক্রি ১৭ কোটি টাকা

বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠান  © সংগৃহীত

আজ রবিবার (১৫ মার্চ) অমর একুশে বইমেলার সমাপনী দিন। এবারের ১৭ দিনব্যাপী মেলার শেষদিন শুরু হয় দুপুর ২টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। আজ তথ্যকেন্দ্রে মেলার নতুন বই জমা পড়েছে ২৩৬টি। অমর একুশে বইমেলায় সর্বমোট নতুন বই এসেছে (২৬ ফেব্রুয়ারি—১৫ মার্চ) ২০০৭টি।

আজ বিকেল ৩টায় সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’—এর সদস্য—সচিব ড. মো. সেলিম রেজা। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মফিদুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।

অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ সফল করা সম্ভব হয়েছে। লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের সামষ্টিক উদ্যাপনে আগামীর বইমেলা নতুনরূপে প্রত্যাশা জাগাবে আমরা এই আশাবাদ ব্যক্ত করতে পারি।  

ড. মো. সেলিম রেজা বলেন, বইমেলায় বাংলা একাডেমিসহ সকল প্রতিষ্ঠানের বই ২৫ শতাংশ কমিশনে বিক্রি হয়েছে। বাংলা একাডেমি ১৪ মার্চ পর্যন্ত ১৭ দিনে ১৭ লক্ষ চার হাজার ৬২৯ টাকার বই বিক্রি করেছে। বইমেলায় অংশগ্রহণকারী সর্বমোট ৫৮৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪টি মিডিয়া ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ৫৭০টি। 

২৬৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ১৭ দিনে তাদের মোট বিক্রির পরিমাণ ৮ কোটি টাকা। সেক্ষেত্রে গড় হিসাবে ৫৭০টি প্রতিষ্ঠানের বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৭ কোটি টাকা।

মো. মফিদুর রহমান বলেন, এবারের বইমেলা ছিল পূর্বের মেলাগুলোর তুলনায় অধিক পরিচ্ছন্ন। মেলায় প্রকৃত পাঠকদের উপস্থিতি ছিল বেশি। ভবিষ্যতে শিশুদের জন্যে ভালো মানের বই এবং আনন্দদায়ক আয়োজনের ব্যবস্থা বৃদ্ধি করার কথা আমাদেরকে ভাবতে হবে।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, আমরা এমন একটি অন্তভুর্ক্তিমূলক ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ চাই যেখানে বৈচিত্র্যের মাঝেও ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে। একটি উন্নত জাতি গঠনের জন্য বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য আমাদের সন্তানদের আবার বইয়ের জগতে নিয়ে যেতে হবে। সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় পাঠাগার ও জ্ঞান প্রসারের জন্য আমাদের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। 

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, যে বই পাঠককে মনের ভেতর থেকে জাগিয়ে তোলে, ন্যায়—অন্যায় বোধ জাগ্রত করে এবং রাষ্ট্র গঠনে ও উন্নত চিন্তা—চেতনা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে সেটিই মানসম্পন্ন বই। একটি জাতির কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ পাঠাভ্যাস দ্বারা নির্ণিত হয়। কাজেই পাঠকদের হাতে ভালো ও মানসম্পন্ন বই তুলে দেওয়ার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে।   

গুণিজন স্মৃতি পুরস্কার ২০২৬
অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি পরিচালিত চিত্তরঞ্জন সাহা, মুনীর চৌধুরী, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই, সরদার জয়েনউদ্দীন এবং শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করা হয়। 

চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার
২০২৫ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান কথাপ্রকাশ—কে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার—২০২৬ প্রদান করা হয়। 

মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার
২০২৫ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা গ্রন্থের জন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্য (প্রকাশয়তি: কালি—কলম আর কাগজের অড রিসার্চ: ফাউন্টেন পেন—আমিন বাবু), প্রথমা প্রকাশন (শিলালিপি: বাংলার আরবি—ফারসি প্রত্নলেখমালা—মুহম্মদ ইউসুফ সিদ্দিক) এবং দি ইউনিভার্সিটি প্রেসকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০২৬ প্রদান করা হয়।

রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার
২০২৫ সালে গুণমান বিচারে সর্বাধিক সংখ্যক শিশুতোষ গ্রন্থ প্রকাশের জন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.—কে রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার ২০২৬ প্রদান করা হয়।

সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার
অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষ্যে ২০২৪ বা ২০২৫ সালে মেলায় যে সকল প্রতিষ্ঠান প্রথম অংশগ্রহণ করেছে তাদের মধ্য থেকে গুণগতমান বিচারে সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সহজ প্রকাশ—কে সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার ২০২৬ প্রদান করা হয়। 

শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার
অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষ্যে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১. ক্রিয়েটিভ ঢাকা পাবলিকেশন্স (স্টল নম্বর—৫০৩—৫০৪), ২. মাত্রা প্রকাশ (স্টল নম্বর—৮৭৩—৮৭৪) ও ৩. বেঙ্গলবুকস (স্টল নম্বর ৬১৭—৬২১)—কে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০২৬ প্রদান করা হয়।