বইমেলায় ফিরছে প্রকাশক ঐক্য
অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই অবস্থান বদলিয়েছে তিন শতাধিক প্রকাশকের প্ল্যাটফর্ম প্রকাশক ঐক্য। অবশেষে তারা আসন্ন অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ অংশ নিচ্ছেন। সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
প্রকাশক ঐক্যের পক্ষ থেকে ইউপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন লিখিত বক্তব্যে বলেন, “আমাদের অবস্থান কোনোভাবেই বইমেলা বা পাঠকের বিরুদ্ধে ছিল না। আমরা চেয়েছি, সৃজনশীল প্রকাশনা শিল্পের মর্যাদা এবং সব প্রকাশকের সমঅধিকার নিশ্চিত হোক। কাঠামোগত বৈষম্য দূর করাই ছিল আমাদের লক্ষ্য।”
এর আগে গত শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশক ঐক্য জানিয়েছিল, স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দের অস্বচ্ছতা এবং সময় স্বল্পতার কারণে তারা এবারের মেলায় অংশ নিতে পারবে না। বিষয়টি নিয়ে রবিবার পর্যন্ত কোনো সমঝোতা না হওয়ায় সোমবার সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
তবে পরিস্থিতি মোড় নেয় রবিবার রাতে। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ামের উদ্যোগে বাংলা একাডেমি এবং প্রকাশকদের একাংশের সঙ্গে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর বাংলা একাডেমি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাপুস নেতাদের সহায়তায় প্যাভিলিয়নপ্রাপ্ত প্রকাশকরা নিজ নিজ প্যাভিলিয়ন সরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছেন। সেই সঙ্গে ১৯ ফেব্রুয়ারি আবেদন করা প্রকাশকদের স্টল-বিন্যাসের লটারি রবিবার রাত ১০টায় সম্পন্ন হয়েছে।
কয়েকজন প্রকাশক সামাজিক মাধ্যমে মেলায় অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। সোমবার সকাল থেকেই কারও কারও স্টল নির্মাণের কাজ শুরু করতে দেখা যায়। সংবাদ সম্মেলনে মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেন, “নানাবিধ সীমাবদ্ধতা, কাঠামোগত সংকট ও সময়স্বল্পতার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও আমরা মন্ত্রণালয় ও একাডেমির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গেছি। আমরা বিশ্বাস করি, সম্মিলিত সহযোগিতায় এবারের বইমেলা সফল ও প্রাণবন্ত হবে। সরকারি বই ক্রয়ের বাজেট বহু বছর ধরে প্রায় স্থবির। প্রকাশনা শিল্প টিকিয়ে রাখতে এ বাজেট বাস্তবসম্মতভাবে বাড়ানো প্রয়োজন।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আদর্শ প্রকাশনীর মাহাবুব রাহমান, অ্যাডর্ন পাবলিকেশনের সৈয়দ জাকির হোসাইন, আহমদ পাবলিশিং হাউজের মেছবাহউদ্দীন এবং বাতিঘর প্রকাশনীর দীপঙ্কর দাশ প্রমুখ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রথমে বইমেলা ডিসেম্বর মাসে এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলা একাডেমি। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর ওই সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়। ২ নভেম্বর বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচনের পর ফেব্রুয়ারিতেই বইমেলা আয়োজন করা হবে। নির্বাচন কমিশন ১১ ডিসেম্বর তপশিল ঘোষণা করে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন নির্ধারণ করলে বইমেলা ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার ঘোষণা আসে।
তবে একাংশের প্রকাশক ঈদের পর মেলা আয়োজনের দাবি তুলেছিলেন। স্টল ও প্যাভিলিয়ন কাঠামো নিয়ে অসন্তোষও সেই দাবির সঙ্গে যুক্ত ছিল। শেষ পর্যন্ত আলোচনার পথেই আপাত সমাধান মিলেছে।