২১ কোটির অর্ধেক পাঠ্যবই ছাপার কাজ পেল মাত্র ১৫ মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান
২০২৭ সালে নতুন বছরের প্রথম দিন নয়, চলতি বছরের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার দিনই শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যের নতুন পাঠ্যবই পাবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। গত দেড় দশক ধরে দেশের প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যবই দিয়ে আসছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ২০২৭ সালের নতুন শ্রেণিতে উঠা শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩০ কোটি বিনামূল্যে পাঠ্যবই দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ১১২টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানে (প্রেস) পুরোদমে চলছে মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ। এরমধ্যে কিছু কিছু প্রেস বই ছাপিয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) বিতরণ কেন্দ্রে পৌঁছে দিয়েছে। আগামী মধ্য নভেম্বর মাস থেকে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুরু হবে বার্ষিক পরীক্ষা, চলবে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত। এদিকে, মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান থেকে ছাপানো বই আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই এনসিটিবির বিতরণ কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সরকার মাধ্যমিকের প্রায় ২১ কোটি পাঠ্যবই ছাপাতে ১১২টি প্রেস বা মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়েছে। মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো ঢাকা ও জেলা-উপজেলা শহরে তাদের ছাপাখানায় কাজ পুরোদমে চালিয়ে নিচ্ছে।
এনসিটিবি থেকে দেওয়া মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে বই ছাপানোর কাজ দিয়েছে এমন একটি প্রতিবেদন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের হাতে এসেছে। সেটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১১২টি প্রেস ২০ কোটি ৭২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৪৪টি পাঠ্যবই ছাপার কাজ পেয়েছে। এরমধ্যে ১৫টি প্রেস বা মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান ১০ কোটি ১৪ লাখ ৫২ হাজার ৯২০টি পাঠ্যবই ছাপার কাজ পেয়েছে। আর বাকি ৯৭ প্রেস মিলে ১০ কোটি ৫৭ লাখ ৯৫ হাজার ৯২৪টি পাঠ্যবইয়ের কাজ পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে ১৫টি প্রেস পাঠ্যবই ছাপানোর অর্ধেক কাজ পেয়েছে।
জানা গেছে, মাধ্যমিকে ১৫টি প্রেসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাঠ্যবই ছাপার কাজ পেয়েছে ব্রাইট প্রিন্টিং প্রেস লিমিটেড ৩৯ লাখ ৯৫ হাজার ৭১৫টি। প্রমা প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস লিঃ ৩২ লাখ ৩৫ হাজার ৯০১টি। সীমান্ত প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস ৪৩ লাখ ৭০ হাজার ৩৩টি। গ্লোবাল প্রিন্টিং ইকুয়েপমেন্ট ২ লাখ ৯৭ হাজার ৪০টি পাঠ্যবইয়ের কাজ পেয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো একই মালিকানায় পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে নিবন্ধিত। এই ৪ প্রতিষ্ঠান মিলে ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৮ হাজার ৬৮৯টি।
পাশাপাশি রয়েছে কর্ণফুলি আর্ট প্রেস। প্রেসটি মোট ১ কোটি ২৫ লাখ ৮২ হাজার ৫২৪টি পাঠ্যবই ছাপার কাজ পায়। অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস, প্রতিষ্ঠানটি পেয়েছে ১ কোটি ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭০৪টি পাঠ্যবইয়ের ছাপার কাজ।
এ ছাড়াও যথাক্রমে রয়েছে, মাস্টার সিমেক্স পেপার লিঃ ৮৯ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৭টি। নুরুল ইসলাম প্রিন্টিং প্রেস ৮২ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৬টি। প্রিন্ট মাস্টার প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিঃ ৭৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪৪টি। সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং ৭৫ লাখ ৮৬ হাজার ৯৭৩টি।
অটো প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং ৬৭ লাখ ৩৪ হাজার ৭১৩টি। লেটার এন কালার কালার ৬৬ লাখ ৩৪ হাজার ৩০৩টি। আমিন আর্ট প্রেস ৬৩ লাখ ১২ হাজার ৯০০টি। মৌসুমি অফসেট প্রেস ৫৩ লাখ ৩২ হাজার ২৮৩টি।
বারতোপা প্রিন্টিং প্রেস ৪৮ লাখ ২৪ হাজার ৯৮৪টি। সীমান্ত প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস ৪৩ লাখ ৭০ হাজার ৩৩টি। কচুয়া প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস ৪২ লাখ ১৫ হাজার ১০৬টি। ব্রাইট প্রিন্টিং প্রেস লিমিটেড ৩৯ লাখ ৯৫ হাজার ৭১৫টি। হাওলাদার অফসেট প্রেস ৩২ লাখ ৯১ হাজার ৪৯১টি।
মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীরা বলছেন, সক্ষমতা ও পূর্বের অভিজ্ঞতার কারণেই মাধ্যমিকে এবার বেশি কাজ পেয়েছেন তারা। এনসিটিবির দেওয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (৩০ নভেম্বর) উপজেলা পর্যায়ে পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে পিডিআই হয়ে অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস ইবতেদায়ীর তিন লটের মোট পাঠ্যবইয়ের ৮১.৫৩ শতাংশ উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে বলে জানা গেছে। বাকি ৬ষ্ঠ, ৮ম ও ৯ম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের ছাপার কাজ চলমান রয়েছে।
এ ছাড়াও ব্রাইট প্রিন্টিং প্রেস লিঃ ৭ম শ্রেণির পাওয়া একটি লটের ছাপার কাজ শতভাগ সম্পন্ন করে উপজেলায় পৌঁছে দিয়েছে। আর ৮ম শ্রেণির দুই লটের মধ্যে পিডিআই হয়ে ২৯.৬৩ শতাংশ ছাপার কাজ শেষ করে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এভাবে অন্যান্য মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রিন্টিং বাইন্ডিং কাটিং পিডিআই চলমান রয়েছে।
জানা যায়, নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ কপি বই এবং মাধ্যমিকে মোট পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ২০ কোটি ৭২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৪৪টি। প্রাথমিক ও মাধ্যমি মিলে পাঠ্যবই ছাপাতে সরকারের ব্যয় হবে ১ হাজার ৮৯০ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৮ টাকা। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) উপজেলা পর্যায়ের বিতরণ কেন্দ্রে পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।