সারের দাবিতে বিক্ষোভের পর ‘গ্রেপ্তার আতঙ্কে’ কৃষকরা, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি কৃষক শক্তির
সারের দাবিতে বিক্ষোভ করতে গিয়ে মামলা, গ্রেপ্তার এবং অজ্ঞাতনামা আসামি করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন জাতীয় কৃষক শক্তি। সংগঠনটির আহ্বায়ক সাঈদ উজ্জ্বল ও সদস্য সচিব কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম এক যৌথ বিবৃতিতে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সাথে কৃষককে ভয় দেখিয়ে নয়, কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েই কৃষি ও দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে কৃষকের ঘরে ফেরার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা দাবিও জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
যৌথ বিবৃতিতে কৃষক শক্তির নেতৃবৃন্দ বলেন, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভের ঘটনায় কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি আরও প্রায় ৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ কৃষকদের মধ্যেও গ্রেপ্তার ও হয়রানির আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কৃষকদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের ভয়ে তারা রাতে নিজ বাড়িতে পর্যন্ত থাকতে পারছেন না।
জাতীয় কৃষক শক্তি মনে করে, সারের সংকট, বিতরণে অনিয়ম কিংবা বৈষম্যের অভিযোগের সমাধান না করে কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের পরিবেশ সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কৃষকরা দেশের খাদ্য উৎপাদনের মূল শক্তি। তাদের নিরাপত্তাহীন ও আতঙ্কগ্রস্ত করে দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগ থাকলে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক—এতে জাতীয় কৃষক শক্তির কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু কোনো নিরপরাধ কৃষক যেন হয়রানি বা অযথা গ্রেপ্তারের শিকার না হন, তা সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিশ্চিত করতে হবে।
তারা বলেন, একই সঙ্গে সারের সংকটের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং সারের নামে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও কালোবাজারি থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে জাতীয় কৃষক শক্তি।