০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৩২

নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ না হলে দেশ ভয়ঙ্কর খাদ্য সংকটে পড়বে: কৃষক শক্তির সদস্য সচিব

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখছেন কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম  © সংগৃহীত

আগামী বোরো মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না হলে দেশ ভয়ঙ্কর খাদ্য সংকটে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গ-সংগঠন জাতীয় কৃষক শক্তির সদস্য সচিব কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম। এর ফলে কৃষকরা ‘গদি ধরে টান দেবে’ বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মানিক মিয়া এভিনিউতে জাতীয় সংসদের সামনে সারের অবৈধ সিন্ডিকেট নির্মূল এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে সার ও জ্বালানি সরবরাহের দাবিতে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় কৃষক শক্তি এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। সংগঠনটির আহ্বায়ক সাঈদ উজ্জ্বলের সভাপতিত্বে এবং মুখ্য সংগঠক নফিউল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে এনসিপির সদস্য সচিব ও জাতীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় গোলাম মর্তুজা সেলিম বলেন, আপনারা জানেন, সারের বাজারে কি পরিমাণ নৈরাজ্য চলছে। কৃষক ন্যায্যমূল্য দিয়ে সার পাচ্ছে না। সিন্ডিকেট করে সার কালোবাজিরির মাধ্যমে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। এক বস্তা ইউরিয়ার সরকার নির্ধারিত মূল্য ১০৫০ টাকা। কিন্তু কয়জন কৃষক ১০৫০ টাকায় সার পেয়েছে? কেউ পেয়ে থাকলে জানাবেন। কোন কোন এলাকায় দেড় থেকে দুই গুন দাম নিয়ে তারপর সার দিচ্ছে কৃষকদের। দেড় থেকে দুইগুণ দাম দিয়েও কোথাও কোথাও সার পায়নি কৃষক ভাইয়েরা। অবশেষে, গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আপনারা নিশ্চয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সেটা দেখেছেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই সারের নৈরাজ্য নিরসনে সরকার এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। কালোবাজারি নির্মূল করতে পারেনি, ন্যায্যমূল্য সার দিতে পারেনি। কিন্তু দায় ঠিকই নিরীহ কৃষক ভাইদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। মহাক্ষমতাধর সরকারের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রী, তিনি নাকি মন্ত্রীদের চেয়েও বেশি ক্ষমতাধর; তিনি তো অবলীলায় বলে দিলেন কৃষকরা অতিরিক্ত সার মজুত করায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।

প্রশ্ন রেখে গোলাম মর্তুজা সেলিম বলেন, যে কৃষক প্রয়োজনীয় সারটুকু কিনেন ঋণ করে, সে কৃষক কিভাবে মজুত করতে পারে? এটা যদি কোন কৃষক করেই থাকে সে বিশেষ শ্রেণির কৃষক। খোঁজ নিয়ে দেখেন, সে নিশ্চয় সরকারি দলের লোকাল নেতা। এই সময়ে সরকারদলীয় ছত্রছায়া ছাড়া কারো পক্ষে সার মজুত করা সম্ভব? এই প্রতিমন্ত্রীর উচিত কৃষকদের কাছে ক্ষমা চাওয়া। সে এখনও ক্ষমা চায়নি। সে কৃষকদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। তাদের কাজে-কর্মে ধীরে ধীরে ফ্যাসিবাদ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

কৃষক শক্তির সদস্য সচিব বলেন, এই ব্যর্থ মন্ত্রীর ব্যর্থতা আমাদের চরম খাদ্য সংকটের মুখোমুখি করতে যাচ্ছে। নভেম্বর-ডিসেম্বর আসলেই বোরো মৌসুমের কাজ শুরু। বোরো মৌসুম পুরোপুরি সেচ নির্ভর। তখন বৃষ্টি হয় না। তখন যদি কৃষকরা তেল, বিদ্যুৎ না পায়, যদি সেচ দিতে না পারে, তাহলে বোরো ধান উৎপাদন মুখ থুবড়ে পড়বে। আর এটা হলে ভয়ংকর খাদ্য সংকট পড়ব। আমি সরকারকে আগাম সতর্ক করছি—বোরো মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের যাবতীয় প্রস্তুতি এখনও শুরু করুন। নইলে কিন্তু কৃষকরাই আপনাদের গদি ধরে টান দিবে।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে গোলাম মর্তুজা সেলিম বলেন, আপনাদের ৬ মাস পেরিয়ে গেছে। হানিমুন শেষ হয়নি এখনও? কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব পরিবর্তন করেন দুই দিন পরপর। ৬ মাসে তিন সচিব দেখল কৃষি মন্ত্রণালয়। কেন আপনাদের এই সিদ্ধান্তহীনতা? কি দেখে সচিব নিয়োগ দেন? কি দেখেইবা আবার সরিয়ে দেন? কাদের পরামর্শে নিয়োগ দেন? কেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বেশিরভাগ উইং এর প্রধান পদগুলো চলতি দায়িত্বে আছেন? কেন পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব দিতে পারলেন না? জানতে চাই।