৩০ আগস্ট ২০২৬, ২০:৪৩

রান্নার সময় গরুর মাংসের রং সবুজ, কারণ জানাল নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ  © টিডিসি সম্পাদিত

খুলনার পাইকগাছায় রান্নার সময় গরুর মাংসের রং লাল থেকে উজ্জ্বল সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। গত ২২ জুলাইয়ের এ ঘটনা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আতঙ্ক দেখা দেয়। পরে কাঁচা ও রান্না করা মাংসের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ল্যাবরেটরিতে।

নমুনা পরীক্ষার পর সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, রেফ্রিজারেটরে রাখা মাংস স্বাভাবিক তাপমাত্রায় না এনে হঠাৎ বেশি তাপের সংস্পর্শে এলে মাংসের লাল রং তৈরির উপাদান পরিবর্তন হয়ে সবুজ রং হয়ে থাকতে পারে। তবে মাংসে ক্ষতিকারক কোনো ব্যাকটেরিয়া বা পচনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খাদ্যবিশ্লেষণ শাখার ২৭ আগস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খাদ্যবিশ্লেষক নাজিয়া সুলতানার স্বাক্ষরিত পরীক্ষার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাংসের নমুনায় কোনো ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বা রং তৈরিকারী ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়নি। মাংসে পচা গন্ধ বা আঠালো ভাবও ছিল না। তাই মাংস পচে যাওয়ার কারণে বা কোনো ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে রং পরিবর্তন হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খুলনা জেলা কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান বলেন, গরুর মাংসের লালচে রঙের উপাদানকে মায়োগ্লোবিন বলা হয়। ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা মাংস হঠাৎ করে অনেক বেশি তাপের সংস্পর্শে এলে ওই উপাদানের পরিবর্তন হতে পারে। তখন মাংসের লাল রং সবুজ হয়ে যেতে পারে।

জানা গেছে, ওই ঘটনার সূত্রপাত পাইকগাছা বাজারে। স্থানীয় মর্ডান বেকারির কর্মচারীরা বাজারের মাংস বিক্রেতা ইসমাইলের কাছ থেকে চার কেজি গরুর মাংস কিনে নেন। বেকারিতে ওই মাংস রান্না করার সময় সেটির স্বাভাবিক লালচে রং বদলে উজ্জ্বল সবুজ হয়ে যায়। বিষয়টি দেখে বেকারির কর্মীরা রান্না করা মাংসের কড়াই নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে যান। পরে তারা থানাতেও বিষয়টি জানান।

বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর নির্দেশে মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খুলনা জেলা কার্যালয় থেকে কাঁচা ও রান্না করা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে প্রধান কার্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়।