২৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:০৫

‘সংকটের দায় কৃষকের হলে সরকার ও প্রশাসনের কাজ কী?’

গোলাম মর্তুজা সেলিম  © সংগৃহীত

বাজারে সার না থাকায় এর দায় কৃষকের হলে সরকার ও প্রশাসনের কাজ কী—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গ-সংগঠন জাতীয় কৃষক শক্তির সদস্য সচিব গোলাম কৃষিবিদ মর্তুজা সেলিম। সংকটের সমাধান না করে এর দায় কৃষকের ঘাড়ে চাপানো কোনো দায়িত্বশীল বক্তব্য হতে পারে না বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। সঙ্গে যুক্ত করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্য দিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদপত্রের ফটোকার্ড। তাতে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে লেখা—‘সারের সংকট নেই, কিছু কৃষকের অগ্রিম মজুতের কারণে সমস্যা হয়েছে।’

এর প্রতিক্রিয়ায় ‘সার সংকট: উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে?’ শিরোনামে কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা লিখেছেন, ‘সারের সংকট নেই, সমস্যা নাকি কৃষকের অগ্রিম মজুতে! বাহ! তাহলে প্রশ্ন হলো কৃষক যদি সার মজুত করে সংকট তৈরি করতে পারে, তাহলে সরকারের সার আমদানি, সরবরাহ, ডিলার নিয়ন্ত্রণ, বাজার তদারকি ও মজুতদারি প্রতিরোধের দায়িত্বটা কার?’

তিনি লিখেছেন, ‘ফসলের মৌসুমে কৃষক সার খুঁজে না পেলে দায়ও কৃষকের, বাজারে সার না থাকলেও দায় কৃষকের তাহলে সরকার ও প্রশাসনের কাজটা আসলে কী? সংকটের সমাধান না করে সংকটের দায় কৃষকের ঘাড়ে চাপানো কোনো দায়িত্বশীল বক্তব্য হতে পারে না। আর শুধু দায়সারা বক্তব্য না দিয়ে যারা মজুত করছে, তাদেরকে কেন গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না?’

গোলাম মর্তুজা সেলিম আরও লিখেছেন, ‘সরকারের এমন উদর পিণ্ডী বুদোর ঘাড়ে চাপানোর কৌশল বরং প্রকৃত অনিয়ম, কালোবাজারি ও সরবরাহব্যবস্থার ব্যর্থতা আড়াল হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। কৃষককে অভিযুক্ত করা সহজ। সার কোথায় গেল, কার কাছে গেল এবং কেন কৃষককে বাড়তি দামে সার কিনতে হচ্ছে সেই প্রশ্নগুলোর জবাব দেওয়া বোধহয় সরকারের জন্য কঠিন। কারণ ভূত এখন সরষের মধ্যেই লুকিয়ে আছে। কৃষকের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে সারের সংকট অস্বীকার করার এই হীন কৌশলকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।’