১৩ মে ২০২৬, ১৮:৩১

অপরিপক্ক আম বিক্রির হিড়িক: বাইরে চকচকে খোসা, ভেতরে কাঁচা

অপরিপক্ক হিমসাগর আম বাজারে  © টিডিসি ফটো

এখনও পুরোপুরি পাকেনি হিমসাগর, অথচ বাজারজুড়ে তার দাপট। বাইরে থেকে হলুদাভ রঙ আর চকচকে খোসা দেখে ক্রেতারা আকৃষ্ট হলেও ভেতরে মিলছে কাঁচা স্বাদ। প্রশাসনের ঘোষিত ‘আম ক্যালেন্ডার’ উপেক্ষা করে যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বেলতলা আমবাজারে আগাম হিমসাগর আম বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি ও শার্শার বিখ্যাত আমের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে বেলতলা আমবাজার ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে করে বিভিন্ন এলাকা থেকে আম বাজারে আনা হচ্ছে। বাজারে প্রচুর পরিমাণে হিমসাগর আমের উপস্থিতি থাকলেও অনেক আম এখনও পরিপক্ক হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অধিক লাভের আশায় একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও কিছু চাষি সময়ের আগেই গাছ থেকে আম নামিয়ে বাজারজাত করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন প্রতি বছরের মতো এবারও ‘আম ক্যালেন্ডার’ ঘোষণা করেছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী গোবিন্দভোগ, বোম্বাইসহ দেশি জাতের আম ০৬ মে থেকে বাজারজাতের অনুমতি দেওয়া হলেও হিমসাগর আম বাজারজাতের নির্ধারিত সময় ১৭ মে। এরপর পর্যায়ক্রমে লেংড়া ২৮ মে এবং আম্রপালি-মল্লিকা ৬ জুন থেকে বাজারে তোলার কথা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশনা অনেক ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না।

বাজারে আম কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, বাইরে থেকে দেখতে সুন্দর হলেও অনেক আমে প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু আম কাটার পর ভেতরে শক্ত ও কাঁচা দেখা যাচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের মতে, আগাম অপরিপক্ক আম বাজারজাতের কারণে শুধু ভোক্তার ক্ষতিই হচ্ছে না, বরং শার্শার আমের দীর্ঘদিনের সুনামও প্রশ্নের মুখে পড়ছে। দ্রুত পাকানোর জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক বা কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

তবে বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী দাবি করেন, বাজারের চাহিদা ও প্রতিযোগিতার কারণেই আগাম আম উঠছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আগেভাগেই আম সংগ্রহ করতে আসছেন। বেশি দামের আশায় ব্যবসায়ীরাও সময়ের আগে আম সংগ্রহ করছেন বলে জানান তারা।

এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিপক কুমার সাহা বলেন, আম ক্যালেন্ডারের নির্দেশনা উপেক্ষার সুযোগ নেই। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো গাছের আম পরিপক্ক হলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার প্রত্যয়ন নিয়ে তা বাজারজাত করা যাবে। তবে বেলতলা আমবাজারে নির্ধারিত সময়ের আগেই অপরিপক্ক হিমসাগর আম বিক্রির বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে ফোন কেটে দেন।

এদিকে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।