বাকৃবির গেস্ট হাউসে ইয়াবাসহ চারজন আটক
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষিবিদ গেস্ট হাউস থেকে ইয়াবাসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে গেস্ট হাউসের ৬ নম্বর কক্ষ থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক চারজনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী, একজন মাস্টাররোলভুক্ত কর্মচারী এবং দুজন বহিরাগত রয়েছেন। পরে তাদের ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটকরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ব্যবসা ও বিতরণ বিভাগের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী লাবিব হাসান মিথুন। অন্যরা হলেন সামিউল আলীম, সামিউল ইবনে আশিকুর রহমান ও সোয়াদ। তাদের কাছ থেকে ইয়াবা ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ইয়াবার কিছু অংশ টয়লেটে ফ্লাশ করে নষ্ট করার চেষ্টা করা হয় বলেও ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা জানান।
কৃষিবিদ গেস্ট হাউসের অফিসার ইনচার্জ সহকারী অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ সরকার বলেন, অফিসের কাজ শেষ করে বাসায় যাওয়ার পর গেস্ট হাউসের স্টাফরা তাকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তারা জানান, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের স্টাফ মিথুনের নামে ৬ নম্বর কক্ষটি বুকিং করা হয়েছে। ওই কক্ষে অপরিচিত ব্যক্তিদের অনাকাঙ্ক্ষিত আসা-যাওয়া, মোটরসাইকেল রাখা ও সন্দেহজনক চলাফেরা দেখা যাচ্ছিল।
তিনি বলেন, গেস্ট হাউসে অন্যান্য অতিথিও অবস্থান করছিলেন। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে স্টাফদের একা বিষয়টি মোকাবিলা না করার জন্য বলা হয়। পরে সহকারী প্রক্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রক্টরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রক্টরিয়াল ভিজিল্যান্স টিমসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন। কক্ষটি খোলার পর ভেতরে চারজনকে পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে বুকিংধারী স্টাফের পাশাপাশি একজন এসি মেকানিক ও দুজন অপরিচিত ব্যক্তি ছিলেন। কক্ষের ভেতরে তীব্র উৎকট গন্ধ পাওয়া যায় এবং তাদের আচরণও অস্বাভাবিক মনে হয়। পরে পুলিশ বাথরুমে তল্লাশি চালিয়ে ৪-৫টি ইয়াবা ও সেবনের একটি কিট জব্দ করে।
গেস্ট হাউস কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, লাবিব হাসান মিথুন অসুস্থতাজনিত বিশেষ কারণ দেখিয়ে তিন দিন আগে এক দিনের জন্য গেস্ট হাউসের ৬ নম্বর কক্ষটি বুকিং নেন। তবে পরে তিনি সেখানে তিন দিন অবস্থান করেন। কক্ষটির তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
সহকারী প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। আবাসিক হলসহ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রতিটি এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, ‘সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে আমার কাছে খবর আসে, গেস্ট হাউসের একটি কক্ষ আমাদের একজন স্টাফ বুকিং নিয়েছেন এবং তাঁর সঙ্গে বাইরে থেকে কয়েকজন লোক সেখানে আছেন। খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ক্যাম্প পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যাই। একই সঙ্গে কোতোয়ালি থানার পুলিশকেও জানানো হয়। রুমের বাইরে থেকে কয়েকবার ডাক দেওয়ার পর প্রায় ৫ থেকে ১০ মিনিট পরে তারা দরজা খোলেন। ভেতরে প্রবেশের পর আমরা একধরনের বাজে গন্ধ পাই এবং ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম দেখতে পাই। পরে পুলিশ তাদের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করে আটক করে নিয়ে যায়। প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার এসআই মাহবুব বলেন, ‘চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’