২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৫১

‘রেজিস্ট্রেশন নম্বর না দিলে রুম থেকে বের হতে দেব না’—সাংবাদিককে শিক্ষকের হুমকি

‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি’র আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রজব আলী।  © টিডিসি ফটো

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ শাসনামলে সংঘটিত নিয়োগ ও পদোন্নতিসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখতে গঠিত ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি’র কার্যক্রমের খোঁজ নিতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন এক সাংবাদিক। কমিটির তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের কাছে তাঁর ব্যক্তিগত একাডেমিক তথ্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন নম্বর দাবি করেন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রজব আলী। রেজিস্ট্রেশন নম্বর না দেওয়া পর্যন্ত তাঁকে কক্ষ থেকে বের হতে দেবেন না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

সম্প্রতি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক ও কৃষি অনুষদের এন্টোমলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. রজব আলীর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোহাম্মদ ফাহিম 'দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ'-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির তদন্তের অগ্রগতি ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়ার পর ড. রজব আলীর কার্যালয় থেকে বের হচ্ছিলেন সাংবাদিক ফাহিম। এ সময় তাঁকে ডেকে শিক্ষক তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, অধ্যয়নরত বিভাগ ও সুপারভাইজারের নাম জানতে চান। সাংবাদিক ফাহিম নিজের গণমাধ্যমের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে পেশাগত পরিচয় নিশ্চিত করার পরও অধ্যাপক রজব আলী ব্যক্তিগত রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়ার জন্য চাপ অব্যাহত রাখেন।

রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে অধ্যাপক রজব আলী বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশন নম্বর না দিলে রুম থেকে বের হতে দেব না।’ তিনি আরও বলেন, “তুমি কি আমাকে চেনো? আমি এখানে ৩২ বছর শিক্ষকতা করছি... ডিগ্রির ভয় পেলে সাংবাদিকতা করতে কেন এসেছ?”

একপর্যায়ে উক্ত সাংবাদিকের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে ফোন করেন ওই শিক্ষক। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কমিটির তথ্য পাওয়ার বিষয়ে তাঁকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “রেজিস্ট্রেশন নম্বর না দেওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে আমি যোগাযোগ করি না, তাদের নম্বর ব্লক করে রাখি।” 

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. রজব আলী দাবি করেন, “প্রথমে সে নিজেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দেয়। আলোচনা চলাকালে সে আমাকে বিভিন্ন বিষয়ে খোঁচা দিয়ে কথা বলছিল। একজন শিক্ষক হিসেবে আমার সঙ্গে যে আচরণ করা উচিত ছিল, সে তা বজায় রাখেনি। তাই আমি নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাঁর রেজিস্ট্রেশন নম্বর চেয়েছিলাম।”

তথ্য সংগ্রহের সময় প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্রের পরিবর্তে ব্যক্তিগত রেজিস্ট্রেশন নম্বর চাওয়ার কারণ এবং বের হতে না দেওয়ার হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সে নিজেকে ছাত্র পরিচয় দেয় বলেই বিস্তারিত আলোচনা করে অনেক কাগজপত্র দেখিয়েছি। তবে সত্যিই যদি সে ছাত্র হয়, তবে রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে সমস্যা কোথায়?”